ছবি: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ সম ফিরোজ-উল হাসান
রাজিব রায়হান, জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দম্পতিকে ডেকে এনে স্বামীকে মীর মশাররফ হোসেন হলের এ ব্লকের ৩১৭ নম্বর কক্ষে আটকে রেখে হলের পাশের বোটানিক্যাল গার্ডেনে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার বিচারের দাবিতে ধর্ষককে বাঁচানোর চেষ্টায় প্রক্টর ও প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবি করেছেন আন্দোলনের আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
(মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাব্বির আলম)
মঙ্গলবার (০৬ ফেব্রুয়ারী ) দুপুর বারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে “নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চ” এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে চার দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। সেগুলো হল- ধর্ষণে অভিযুক্ত অপরাধীদের সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করা, অছাত্রদের হল থেকে বের করে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আসন নিশ্চিত করা, যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনির শাস্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ সম ফিরোজ-উল হাসান এবং মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাব্বির আলমের পদত্যাগের দাবি।
মানববন্ধনে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান লাবিব বলেন, ঐ দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রভোস্ট দুজনে মিলে ধর্ষকক বাঁচানোর জন্য পঁয়তারা করছে। অবশেষে তারা ধর্ষকে পালাতে সহযোগিতা করে। যারা ছাত্রলীগের ছায়া হিসেবে কাজ করে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।
ইতিহাস বিভাগের পারভীন জলি বলেন, নিপীড়ক শিক্ষার্থী ও তাকে সহায়তাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে, অপরাধী ও অবৈধ এই শিক্ষার্থীর সদনপত্র ও ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজ ব্যয়ে বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা লড়ে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ দিনের মধ্যে অবৈধ শিক্ষার্থীদেরকে হল থেকে বের করার আশ্বাস দিলেও এখনো কোন উদ্যোগ নেয়নি, ইতোমধ্যে তিনদিন পেরিয়ে গেছে। আমরা আগামী দুই দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো অবৈধ শিক্ষার্থীমুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।
দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রাইহান রাইন বলেন, 'ক্যাম্পাসে যত কিছুই হোক উপাচার্য সাহেব নির্বিকার থাকেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোন অভিভাবক নেই। অভিভাবক আছে ধর্ষক, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে তাদের হলে রাখছে। এই আন্দোলনের মধ্যদিয়ে আমরা অছাত্রদের হল থেকে বের করতে চাই, অপরাধের বিচার চাই, ক্যাম্পাসের নির্বিকার প্রশাসনের নিরসন চাই।'
ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, হল প্রশাসন প্রথমে ধর্ষণের কথা অস্বীকার করেছে। এরপর তারা ধর্ষককে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। প্রশাসন সিন্ডিকেটে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা যদি বাস্তবায়ন না করে তাহলে আমরা এক দফা দাবিতে আন্দোলনে যাবো।
মানববন্ধনে সমাপনী বক্তব্যে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক পারভীন জলি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ দিন সময়ের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ছাত্রদের কোন তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি। ধর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা না করে থানায় শুধু একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। উপাচার্য বারবার বলেন আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কমিটমেন্ট দেন কিন্তু তা বাস্তবায়ন করেন না। যেমনটি হয়েছে মাহমুদুর রহমান জনির ক্ষেত্রে। প্রায় দেড় বছর পার হয়েছে এখন পর্যন্ত তার কোনো বিচার হয়নি।'
এছাড়াও মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধাসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
এদিকে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইনকে আহ্বায়ক ও শিক্ষার্থী মাহফুজুল আলম মেঘকে সদস্যসচিব করে ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে “নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চ ” এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.