Daily Dhaka Press

কর্মদিবসেও জমে উঠছে বইমেলা

ঢাকা: অমর একুশে বইমেলার আজ ষষ্ঠদিন। শুরু থেকে জমে উঠেছে এবারের বইমেলা। ছুটির দিনের পাশাপাশি কর্মদিবসেও প্রাণবন্ত মেলা। তবে এখন পর্যন্ত বই বেচাকেনা কম হলেও লেখক-পাঠক-দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখরিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলা প্রাঙ্গণ।

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায় এমন দৃশ্য। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকে মেলায় দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর থেকে মেলা চত্বর হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। নতুন বই ছুঁয়ে, বইয়ের পাতা উল্টেপাল্টে দেখছেন পাঠকরা।

প্রকাশকরা বলছেন, কোভিডের পর দুই বছর কিছুটা নিষ্প্রভ ছিল মেলা। এবার শুরু থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড়। ছুটির দিন ছাড়া কর্মদিবসেও মুখরিত মেলা। প্রত্যাশা অনুযায়ী বেচাকেনা না হলেও সামনে বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

প্রতীক ও অবসর প্রকাশনীর প্রকাশক বলেন, ‘মেলায় দর্শনার্থী-পাঠক ঠিকই আছে, কিন্তু বেচাকেনা কম। যেভাবে দর্শকের ছড়াছড়ি সেভাবে বই বিক্রি হলে তো বেশ হতো। করোনার আগের সময়গুলোতে শুরুর দিকেই বেচাকেনা হতো। মেলা জমে উঠেছে, প্রত্যাশা রাখছি বেচাকেনাও বাড়বে।’

অন্যপ্রকাশ স্টলের সামনে কথা হয় টঙ্গী কলেজের শিক্ষার্থী নোমানের সঙ্গে। নোমান বলেন, ‘মেলায় মূলত শিক্ষার্থীদের আনন্দ বেশি। কারণ আমরা রানিং স্টুডেন্ট, বই পড়ার সময় এখনই। মেলায় জনপ্রিয় লেখকদের সঙ্গে দেখা হওয়াটা আনন্দের। সাদাত হোসাইনের বইসহ আরও কিছু বই সিলেক্ট করে নিয়েছি, সেগুলো কিনবো।’

মেলা প্রাঙ্গণের পাশেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন মো. আরাফাত নামের এক শিক্ষার্থী।  তিনি বলেন, ‘কোন বই আলোচিত হবে সেটা লক্ষ্য রাখছি। ফেসবুক গ্রুপে চোখ রাখছি, বইয়ের রিভিউ পড়ছি। আগামী সপ্তাহে বই কেনার ইচ্ছা আছে।’

পেনবুকস প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী তাপস বিশ্বাস বলেন, ‘আজ তো ছয়দিন শেষ হলো। তবে এখনো আশানুরূপ বেচাকেনা হয়নি। যদিও মেলায় এখন অনেক দর্শনার্থী। অনেকেই আসেন আড্ডা দিতে, মেলা প্রাঙ্গণে বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করে চলে যান। বই কেনায় আগ্রহ কম।’

এবার বইমেলায় ৫৭৩ প্রতিষ্ঠানকে ৮৯৫টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৭৮৬টি সাধারণ স্টল এবং ১০৯টি স্টল লিটল ম্যাগাজিন চত্বরকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ বছর ৩৭টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মেলা ঘিরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মাসব্যাপী সেমিনারের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য ছবি আঁকা, সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা রয়েছে। শিশুপ্রহরে থাকছে আকর্ষণীয় সিসিমপুরের প্রদর্শনী।

ডেইলি ঢাকা প্রেস/আরআর/০৬ ফেব্রুয়ারি,২০২৪

Exit mobile version