Site icon Daily Dhaka Press

‘সময় বদলেছে কিন্তু শিরোনাম বদলায়নি’

রাজিব রায়হান, জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চের সংগঠক ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আনিছা পারভীন জলি বলেছেন, ‘১৯৯৮ সালে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থেকে দৈনিক পত্রিকার শিরোনাম হয়েছিল ছাত্রলীগের ক্যাডাররা।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনায় ও ছাত্রলীগের নাম এসেছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জড়িত ছিল। সুতরাং সময় বদলেছে কিন্তু শিরোনাম বদলায়নি।’

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে অনুষ্ঠিত নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চের সংহতি সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় আনিছা পারভীন জলি বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনার দায় ছাত্রলীগ কোনোভাবেই এড়াতে পারেনা।

এ ধর্ষক একদিনে তৈরি হয়নি, নানা অপকর্ম ও প্রশাসনের উদাসীনতায় তৈরি হয় এসব ধর্ষক। ’

এ ছাড়াও ছাত্রলীগের শাখা সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘জনাব আকতারুজ্জামান সোহেল আপনি কোন সাহসে দেন-দরবারে বিষয় নিয়ে উপাচার্যের কাছে যান? আপনি নিজেই ৪২ ব্যাচের একজন মেয়াদোত্তীর্ণ অছাত্র।

যেখানে পাঁচ দিন ধরে আন্দোলন চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ অছাত্রদের হল থেকে বের করার, সেখানে ৪২ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি কিভাবে উপাচার্যের কাছে দেন-দরবার করতে যান? তাহলে এখান থেকেই বোঝা যায় প্রশাসনের কতটা সদিচ্ছা আছে!

এ যাবতকাল ধর্ষক মানিক থেকে মোস্তাফিজ পর্যন্ত সব জায়গায় ছাত্রলীগের নাম এসেছে। যতই বলেন মোস্তাফিজ আমাদের দলের কেউ না, তাতে ছাত্রলীগ এই ধর্ষণের দায় এড়াতে পারে না।

যারা ছাত্রজীবনে নিপীড়নের সাথে যুক্ত ছিলেন তারাই হলগুলোতে প্রভোস্টের দায়িত্ব পাচ্ছেন। তারা কিভাবে হলের নির্যাতন বন্ধ করবেন?

অছাত্রদের হল থেকে বের করার নামে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি করছেন। প্রভোস্টদেরকেও এই ঘটনায় জবাবদিহিতায় আনতে হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিনেট সদস্য ব্যারিষ্টার শিহাব উদ্দিন খান। তিনি বলেন, এত সব ঘটনার পরও প্রশাসন কতটা নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদকের বিস্তার লুকিয়ে রাখা যায় না। অংশীজনদের সাথে নিয়ে মাদকের ব্যবহার পুরোপুরি কমিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু সেল গঠন করে বসে থাকলেই চলবে না।

এর সাথে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জড়িত। এখ‌নো বিভিন্ন হ‌লে যা‌দের ছাত্রত্ব অ‌নেক আ‌গেই শেষ হ‌য়ে‌ছে তারা এখনও হলে আ‌ছেন ।

আ‌মরা জান‌তে পে‌রে‌ছি অছাত্রদের বের করার উদ্যোগকে দৃশ্যমান করতে হল প্রশাসন নন এলো‌টেড কিন্তু দীর্ঘদিন হলের রুমে অবস্থান করছেন এবং যারা রাজনী‌তির সাথে সম্পৃক্ত নয়, তা‌দের‌কেই কেবল মাত্র হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

এ সময় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার, অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম, অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Exit mobile version