Site icon Daily Dhaka Press

কুমিল্লা সিটির উপনির্বাচনে প্রতীক নিয়ে মাঠে প্রার্থীরা

কুমিল্লা সংবাদদাতা: আসন্ন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে মেয়র পদের চার প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতীক পেয়েই প্রচারে নেমেছেন প্রার্থীরা। হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে তাদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাচ্ছেন ভোটাররা।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে উপ-নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন।

প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক দুইবারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর পক্ষে তার পছন্দের ‘টেবিল ঘড়ি’ প্রতীক বরাদ্দ নেন অ্যাডভোকেট মো. মোস্তফা। নিজাম উদ্দিন কায়সার নিজেই তার ‘ঘোড়া’ প্রতীক গ্রহণ করেন।

তাহসিন বাহার সূচনার পক্ষে ‘বাস’ প্রতীক গ্রহণ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুল্লাহ খোকন। নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম নিজেই তার ‘হাতি’ প্রতীক গ্রহণ করেন।

প্রতীক বরাদ্দের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা তাদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চালাতে পারবেন।

শুক্রবার থেকেই প্রার্থীদের আচরণবিধি পর্যবেক্ষণে প্রতি তিন ওয়ার্ডে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবেন এবং মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা।

‘ঘোড়া’ প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে প্রচার নেমেছেন নিজাম উদ্দিন কায়সার। এছাড়া মাইক ব্যবহারে অনুমতি নিতে হবে। কোনোভাবেই এসএসসি পরীক্ষা ব্যাহত হয়, এমন কোনো প্রচার করা যাবে না।

রিটার্নিং অফিসার আরও বলেন, প্রচারে দুপুর ২টা থেকে প্রতি ওয়ার্ডে একটি মাইক ব্যবহার করা যাবে। কোথাও কোনো খাবার ও পানীয় বিতরণের সুযোগ নেই। উঠান বৈঠক, পথসভা অবশ্যই পুলিশকে জানাতে হবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না এবং মনিটরিং কমিটিতে প্রার্থীদের প্রতিনিধি থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

ভোটারদের ভাষ্য, এবারের কুসিক নির্বাচনে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের দুইজন নেতা এবং বিএনপির সাবেক দুইজন নেতা।

ভোটের মাঠে তারা সবাই হেভিওয়েট প্রার্থী। যার কারণে চারজনের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

আগামী ৯ মার্চ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএমে) মাধ্যমে কুমিল্লা সিটিতে মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

চার প্রার্থীর মধ্যে টেবিল ঘড়ি বরাদ্দ পাওয়া কুমিল্লা সিটির সাবেক দুইবারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু সর্বশেষ ২০২২ সালের ১৫ জুনের সিটি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মেয়র পদে লড়ে বিএনপি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হয়েছিলেন।

ওই নির্বাচনেও সাক্কুর একই প্রতীক ছিল। বহিষ্কারের আগে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন।

পছন্দের ‘বাস’ প্রতীক পাওয়া কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. তাহসীন বাহার সূচনা কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের কন্যা।

ঘোড়া প্রতীক পাওয়া নিজাম উদ্দিন কায়সার কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি। ২০২২ সালের ১৫ জুনের সিটি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মেয়র পদে লড়ে তিনিও দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনেও কায়সার একই প্রতীক নিয়ে লড়াই করেন।

আর হাতি প্রতীক পাওয়া নুর-উর রহমান মাহমুদ তানিম কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি।

এর আগে ২০২২ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) তৃতীয় নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন।

রিফাত ছিলেন কুমিল্লা সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়র। প্রতিদ্বন্দ্বী ও আগের দু’বারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর চেয়ে তিনি মাত্র ৩৪৩ ভোট বেশি পেয়েছিলেন।

ওই বছরের ৭ জুলাই রিফাত মেয়রের দায়িত্ব নেন। কিন্তু গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রিফাতের মৃত্যুতে ১৮ ডিসেম্বর মেয়রের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে গত ২২ জানুয়ারি মেয়র পদে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দার এই মহানগরীতে ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০; তাদের মধ্যে নারী ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২, পুরুষ ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৬, আর হিজড়া ভোটার ২ জন।

মোট ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই সিটি করপোরেশনে গত নির্বাচনে ১০৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করেছিল নির্বাচন কমিশন।

Exit mobile version