
রাজশাহী: আমি হারুন। চাকুরির জন্য শহরে থাকি। একটা বেসরকারি ব্যাংকে চাকুরি করি। কথা একটু বেশি বলি। খুব সহজেই মানুষকে আপন করে নিতে পারি। আমি যে ব্যাংকে চাকুরি করি সেখানে একজন বিদেশি চাকুরি করেন। আমি জয়েন করেছি খুব বেশি দিন হয়নি। এর মধ্যেই সবার সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে ফেলেছি। কিন্তু বিদেশির সাথে এখনো পরিচিত হতে পারিনি। আমি আগ বাড়িয়ে তার সাথে পরিচিত হতে গেলাম। প্রথমে নিজের পরিচয় দিয়ে তার পরিচয় জানতে চাইলাম। কিন্তু তিনি আমার দিকে ফিরেও তাকালেন না। মেজাজটা খুব খারাপ হয়ে গেল। তার পিছনে গিয়ে বললাম এত ভাব ভালো না। কথাটা তাকে শুনিয়ে শুনিয়েই বললাম কারণ আমি এত অপমান কোনো দিনও হয়নি।
একদিন দুপুরের খাবার খাচ্ছিলাম, হঠাৎ বিদেশি লোকটি এসে বললো আমি দুঃখিত। সেদিন আপনার সাথে কথা বলিনি৷ আসলে আমার কমিউনিকেশন স্কিল ভালো না। মানে আমি সবার সাথে মিশতে পারি না। কথা কম বলি। তারপর তিনি তার পরিচয় দিলেন।
তার নাম নুয়ের। সুদান থেকে এসেছেন। এখানে তিনি প্রায় দশ বছর যাবত কাজ করছেন। অনেক বছর এদেশে থাকায় এখানকার ভাষাও শিখে ফেলেছেন। তবে শুদ্ধ ভাবে কথা বলতে পারেন না। সেদিন তার সাথে পরিচিত হলাম। আস্তে-আস্তে তার সাথে আমার ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেল।
তার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম তিনি এখনো বিয়ে করেননি। দেশে যান না বহু বছর হলো। দেশে আপনজন বলতে কেউ নেই। ভূমিকম্পে তার পরিবারের সবাই মারা গেছেন। তাই দেশে যান না। ভারি গম্ভীর টাইপের মানুষ। নিজে থেকে কোনো কথাই বলেন না৷ কিছু জানতে চাইলে শুধু তার উত্তর দেন, এর বাইরে কোনো কথায় বলেন না। হয়তো আপনজন হারিয়ে এমন হয়ে গেছেন। আমার বাসা অফিস থেকে বেশ দূরে ছিলো। প্রায়ই অফিসে আসতে দেরি হয়ে যেত।তাই অফিসের কাছাকাছি বাসা খুজছিলাম। কিন্তু পাচ্ছিলাম না। নুয়েরকে বললাম, ভাই আমার জন্য একটা বাসা দেখেন তো। অফিস অনেক দূরে হয়ে যায়।
যেমন- মাঝে-মধ্যে রাতের বেলা একা একাই কথা বলে। মাঝে-মধ্যে মধ্য রাতে একা একাই হাটতে বের হয়। একদিন তাকে এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলেই তিনি খেপে গেলেন। তিনি আমাকে সাবধান করে দিলেন, যাতে তার কোনো ব্যাক্তিগত বিষয় নিয়ে আমি কথা না বলি। আমি কিছু মনে করলাম না। কারণ তার সাথে আমার এখন ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে। এখন আমার এসব বিষয়ে না জানলেও চলবে। দুইজনের দিনকাল ভালোই কাটছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে শহরে একটি সমস্যা দেখা দিল। শহরের ব্যাংকাররা খুন হতে লাগলেন। যদিও আমাদের ব্যাংকের কারো কোনো ক্ষতি হয়নি। শুধু ব্যাংকারদেরই কে খুন করছে। আর কেনইবা খুন করছে। খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম।সবগুলো খুন একইভাবে হতো।
প্রতিদিনই কারো না কারো মৃত্যুর সংবাদ আসতো। পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা কেউই আসামিকে ধরতে পারছিলেন না। শহরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। কেউ কেউ ভুতের কথা বলে গুজব ছড়াচ্ছিল। মানুষ শহর ছাড়তে শুরু করে দিল। আমি নুয়েরের সাথে বিষয়টা নিয়ে কথা বললাম। নুয়ের আমাকে বললো - সবাইকে খুন করলেও আপনাকে হয়তো কিছু করবে না। কারণ আপনিতো অনেক ভালো মানুষ। তবে আপনি চাইলে সবার মতো শহর ছেড়ে চলে যেতে পারেন। আমি বললাম কারোরই আর কোনো ক্ষতি না হোক। আর আমি শহর ছেড়ে চলে গেলে আপনি কোথায় যাবেন। নুয়ের বললো আমি আর কোথায় যাব। আমার কি যাওয়ার মতো জায়গা আছে নাকি।এই বলে চুপ করে গেলেন আর কোনো কথা বললেন না। একদিন মধ্য রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল।বিছানায় উঠে বসে পরলাম। হঠাৎ দেখলাম বারান্দায় কেউ একজন হাটাহাটি করছে।
আমি ভয় পেয়ে গেলাম। একটু কাছে যেতেই দেখলাম নুয়ের। কি যেন বলছে আর ছোটাছুটি করছে। আমি কৌতূহল নিয়ে দেখতে থাকলাম সে কি করে। একটু পরেই সে তার রুমের দিকে ছুটে গেল। রুম থেকে একটি ধারালো ছুরি নি ক্ষিপ্র গতিতে বাইরে চলে গেল। আমি ভয় আর কৌতূহল নিয়ে তার পিছনে চুপিচুপি চললাম। একটু দূরে যেতেই দেখলাম সে আমাদের এম.ডি স্যারের বাসার দেওয়াল টপকে ভিতরে ঢুকলো। আমিও তাকে অনুসরণ করলাম।৷ বাড়ির ভিতরে ঢুকেই স্যারের রুমের দরজা ভেঙে রুমের ভিতরে ঢুকলো। স্যারের স্ত্রীর নাকে কি যেন স্প্রে মেরে দিল।তারপর স্যারকে সেই ছুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে লাগলো।
এটা দেখে আমি মূর্তির মতো হয়ে গেলাম। পা দুটো অবশ হয়ে আসলো।নুয়ের স্যারকে হত্যা করার পর স্যারের রক্তগুলো একটা গ্লাসে নিয়ে পান করলো।আমি আমার নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মানুষ সাইকোএডিক্টেড হয়ে এরম হয়ে যেতে পারে আমার ধারণা ছিল না। আমি তাহলে এত দিন সিরিয়াল কিলারের সাথে ছিলাম।
মোঃ আসিফ
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.