Site icon Daily Dhaka Press

কাল চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে রোজা শুরু

নিজস্ব সংবাদদাতা : আরব দেশগুলোতে চাঁদ দেখার খবর পেলেই রোজা রাখা এবং ঈদ উদযাপন করে আসছেন চাঁদপুরের এক পীরের অনুসারীরা।

ওই জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা ইসহাক (রহমতুল্লাহ আলাইহি) এর অনুসারীরা প্রায় শত বছর ধরে এ রীতি অনুসরণ করে আসছেন।

রোজা, ঈদের নামাজ কোরবানি, মহরম’সহ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে এই রীতি অনুসরণ করে এ দরবারের ভক্তরা।

১৯২৮ সালে সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা ইসহাক রহমতুল্লাহ আলাইহি প্রথম চাঁদ দেখার সাথে মিল রেখে হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামায়াত চালু করেন।

বর্তমানে সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা ইসহাক রহমতুল্লাহ আলাইহির ছেলে মাওলানা জাকারিয়া চৌধুরী এবং দৌহিত্র আরিফুল্লাহ চৌধুরী পৃথক পৃথক কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে রেওয়াজ ধরে রেখেছেন।

জানা গেছে, সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারীরা ৯৬ বছর ধরেই আরব দেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রায় ৪০টি গ্রামে রোজা ও ঈদ উদযাপন করে থাকেন।
সাদ্রা ছাড়াও একদিন আগে রোজা এবং ঈদ উদযাপন করা গ্রামগুলো হলো- হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, অলিপুর, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, বাসারা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম।
সাদ্রা দরবার শরীফে ঈদের নামাজের জন্য দুটি জামায়ত অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ৮টায় দরবারের খানকার পাশের মাঠে ঈদের ১ম জামায়াতে ইমামতি করেন পীর মাওলানা ইসহাক রহমতুল্লাহ আলাইহির ছেলে মাওলানা জাকারিয়া চৌধুরী এবং সকাল ১০টায় ২য় জামায়াতে ইমামতি করেন ইসহাক রহমতুল্লাহ আলাইহির বড় ছেলের পুত্র মাওলানা আরিফুল্লাহ চৌধুরী।

এ ছাড়া চাঁদপুরের পাশের নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও শরীয়তপুর জেলার কয়েকটি স্থানে মাওলানা ইছহাক খানের অনুসারীরা একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।

সকাল ১০টায় সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা ইসহাক রহমতুল্লাহ আলাইহির নাতি মো. আরিফ চৌধুরী সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে ঈদের নামাজের ২য় জামায়াতে ইমামতি করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাদ্রা দরবার শরীফের পীর অধ্যক্ষ মরহুম মাওলানা আবু ইছহাক ইংরেজি ১৯২৮ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ইসলামের সব ধর্মীয় রীতিনীতি প্রচলন শুরু করেন।

মাওলানা ইছহাকের মৃত্যুর পর থেকে তার ছয় ছেলে এ মতবাদের প্রচার চালিয়ে আসছেন।

Exit mobile version