
ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জয়শ্রী সেনের পারিবারকে হয়রানি ও অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ উঠেছে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অসাধাচরণের অভিযোগ ওঠা এ কর্মকর্তার নাম আব্দুস সালাম ওরফে সেলিম।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, প্রক্টর, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শাপলা ফোরামের প্রতিও অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ১৪ এপ্রিল দুপুর আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে ছেলে সন্তানকে সাথে নিয়ে মোটর বাইকে করে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন তার স্বামী। এসময় মেইনগেট অতিক্রমকালে উপস্থিত নিরাপত্তা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম (সেলিম) তাদেরকে আপত্তিকর কথাবার্তা বলে চরমভাবে অপমান করেন। স্বামীর সামনে তাকেও অপমানজনক কথাবার্তা বলেছেন বলে অভিযোগ পত্রে তুলে ধরেন তিনি।
অভিযোগ পত্রে আরও উল্লেখ করেন যে, এ ঘটনায় তিনি একজন শিক্ষক হিসাবে চরমভাবে অপমানিত। সর্বোপরি ঘটনাস্থলে শিক্ষিকার ছেলে তার বাবার সাথে ছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন গ্রাজুয়েট হিসাবে মেইন গেটে এমন হয়রানি ও অপমানজনক আচরণে তার স্বামী মানসিকভাবে ভীষণ আঘাত পেয়েছে।
সহযোগী অধ্যাপক জয়শ্রী সেন বলেন, ঐ দিন আমার স্বামী সন্তানকে নিয়ে তার মায়ের বাসায় যাচ্ছিলেন। এসময় মেইনগেটে নিরাপত্তা কর্মকর্তা তাকে থামিয়ে অকারণে আপত্তিকর ও অসম্মানজনক কথাবার্তা বলেন। এ নিয়ে প্রক্টরের কাছে মৌখিকভাবে জানালেও কোন সম্মানজনক সমাধান পাইনি। এটা শিক্ষক সমাজের জন্য অপমান ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সম্মানার্থে আমি এতদিন ধৈর্য ধরে ছিলাম।
এ বিষয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তা সেলিম বলেন, প্রত্যক্ষদর্শী অনেকের সাথে কথা বললে আসল সত্য সামনে আসবে। বলতে গেলে ইদের পর বহিরাগতদের চাপে মেইনগেটে অনেক ভীড় থাকে। ম্যামের স্বামী বাইক নিয়ে ঢোকা বা বের হওয়ার সময় বাইকের হর্ন বাজিয়ে মেইনগেটে উপস্থিত দারোয়ানদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে মেইনগেট খুলে দিতে বলেন। ছোট গেট দিয়েও তিনি বাইক নিয়ে যেতে পারতেন। তার স্বামীর সাথে কোনো খারাপ ব্যবহার করিনি। আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করেছি। বিষয়টা সঠিক তদন্ত করা হোক।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কথা বলা হচ্ছে। আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব করে যাচ্ছি।
রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম আলী হাসান বলেন, অভিযোগ পত্রটি গতকাল হাতে পেয়েছি। শিক্ষকের বিষয় যেহেতু তাই ইস্যুটি সেনসিটিভ। অভিযোগটি শীঘ্রই উপাচার্যের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং যা ব্যবস্থা নেওয়ার উপাচার্য নিবেন।
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.