হাসপাতালের বারান্দায় বসে আছে ৪ বন্ধু। সাকিব, সাদ, তানভির, রাফি নিজেদের মধ্যে কথা বলেছে।
সাকিব সাদকে: রোহান হিমুর পিছে এতোগুলা বছর ঘুরলো, তারপরও মেয়েটা এভাবে অবহেলা কি করে পারলোরে চল ঐ মেয়ের খবর আছে, ওর জন্য আমাদের বন্ধু হাসপাতালে।
তানভির: বন্ধুটা হাজারো দুঃখ থাকলেও সবসময় আমাদের সামনে হাসি মুখে থাকে। একতরফা ভালোবাসা হেরে যাবে তাই এভাবে ভাবতেই পারেনি। কত মেয়ের কথা বললেও ও ঐ এক হিমুতেই। অন্য মেয়ে চায় না জেদ ওর একটাই। এটা রোহান নামের একটি ছেলে ও হিমু নামে একটি মেয়ের গল্প।
তো গল্পের পিছনে আসা যাক-
গল্পটা শুরু ৭/৮ বছরের আগে প্রথম দেখা সেদিন ই বৃষ্টির দিনে হিমুর সাথে। এরপর মাঝে মধ্যে দেখা সেসময় ফোন না থাকাতে রোহান হিমুর নামটাও জানতো না। এরপর দেখতে দেখতে ২/৩ বছর গেলো রোহান এসএসসি দিয়েছে। এরপর সে হিমুর ফলো করতে লাগলো ফলো, কিন্তু হিমুর সঙ্গে হিমুর মা সবসময় থাকাতে রোহান কথা বলতে পারেনি। তারপরও রোহান চেষ্টা চালিয়ে গেছে একটা দিন সুযোগের। এরপর রোহান ফোন কিনলো, তারপর রোহান তার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হিমুর সকল তথ্য খুঁজে পায় এভাবে দেখতে দেখতে আরো ৫ বছর গেলো। এর মাঝে রোহান হিমুর সঙ্গে লেগেই ছিলো যেন হিমুর জেএসসি, এসএসসি স্কুল পরীক্ষা সবগুলাতে একবার হিমুকে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতো রাস্তার ধারে। হিমুর জন্মদিনেও রোহানের বন্ধুরা রোহানকে ডিম ফাটিয়ে উদযাপন করতো। রোদ,ঝড়,বৃষ্টির মধ্যেও রোহান হিমুকে একটা বার দেখার জন্য হিমুর বাসার সামনে কিংবা হিমুর স্কুলের পাশে, কিংবা হিমুর কোচিং-এর সামনে দাড়িয়ে থাকতো। রোহান মনে করতো হিমু হইতো তাকেও দেখে। এরপর হিমু এসএসসির পর একাকি চলা শুরু করলো। রোহান দীর্ঘ ৫/৬ বছর অপেক্ষার পর এবার সুযোগ পেতে যাচ্ছে, একদিন শীতের সন্ধ্যা কোচিং শেষে রোহান হিমুর কোচিং-এর কাছে দাঁড়িয়ে আছে, আজ হিমুকে তার মনের কথাটা বলবেই। রোহান অস্থির হয়ে গেছে সে কি দিয়ে শুরু করবে কথা।
হিমু আসছে, রোহানের বুকে কেমন যেন লাগছে, এরপর হিমু আসলো,হিমুকে রোহান ডাক দিলো,সে খেয়াল করলো না, রোহান আবার ডাক দিলো হিমু!! হিমু এবার দাড়ালো বললো বলেন। রোহান: তোমার সঙ্গে কিছু কথা ছিলো
হিমু: জ্বি বলেন
রোহান: তুমি হইতো জানোই কি বলতে চাচ্ছি আমি!!
হিমু: না তো, বলেন
রোহান: হাসি মুখে হিমুর চোখের দিকে তাকিয়ে..এই যে ৬/৭ বছর হলো তোমার পিছে ঘুরছি,তুমি কি জানো না সেটা!! তো তোমার এনসার টা কি হতে পারে আমার বিষয়ে?
হিমু: হাসি মুখে..না আসলে আমি এসব এখন করবো না।
রোহান: ওহ্ আচ্ছা, তবে আমি তোমার উত্তরের অপেক্ষায় থাকবো পরশুদিন আবার আসবো
হিমু: বান্ধবীর সঙ্গে হেসে হেসে কিচিরমিচির কথা বলতে বলতে চলে গেলো এরপর ২ দিন পর রোহান আবারো হিমুর অপেক্ষায় সঠিক সময়ে দাড়িয়ে আছে, হিমুও আসলো এবার রোহান ডাকছে হিমু! হিমু! শোন! কিন্তু হিমু রোহানকে অবহেলা করে দ্রুত রিকশায় উঠে চলে গেলো।
এরপর সবসময় রোহানকে দেখলেই হিমু দ্রুত চলে যায়, ইগনোর করে রোহানকে। রোহান খুব কষ্ট পেল, গতদিনের হাসিমুখের কথা শুনে তার ভালো লেগেছিলো, প্রেম না করুক সে অন্তত পরিচিত হয়ে আপাতত থাকুক চেয়েছিলো, কিন্তু সে তো রোহানকে অবহেলা করা শুরু করেছে। এরপরও রোহান হিমুর পিছে ঘুরতো, শুধু মাত্র ভালো কিছুর অপেক্ষায়। এরপর রোহানের এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা চলে এলো এতদিনে রোহান পরিবারকে খুশির পাশাপাশি হিমুকে পেতে দিন রাত এক করে পড়াশোনা করেছে, কিন্তু দুর্ভাগ্য কারণে সে অপেক্ষামান থেকে বাদ পড়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে যায়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও জয় করবে সে হিমুকে এই দৃঢ় সংকল্পে সে এগোচ্ছে। হিমুর পিছে এখনো সে ঘুরে, একদিন হিমুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইডি পায় রোহান। হিমুকে রিকোয়েস্ট ও পাঠায়। প্রতিদিন রোহান অপেক্ষায় থাকে কবে হিমু তার রিকোয়েস্ট গ্রহণ করবে। একদিন রাত ১১ টা। রোহান মাত্র ঘুমাতে যাবে, হঠাৎ রোহানের ফোনে যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বার্তা আসলো হিমু রোহানের দেওয়া আইডির রিকোয়েস্ট গ্রহণ করেছে সঙ্গে সে আবার রোহানকে ফলো দিয়েছে। রোহান নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারছিলো না এটা কি সত্যি দেখছে!! সেদিন সে ভাবলো আজই হিমুকে ম্যাসেজ করা যাবে না, ১ টা দিন যাক পরের ২ দিন রোহান একটু ব্যস্ত থাকাতে রোহান হিমুর সঙ্গে প্রথম কথা বলতেই পারেনি, তো রাতে সে যেই না হিমুকে ম্যাসেজ দিবে দেখে হিমুকে তাকে ব্লক করে দিয়েছে রোহানের মনটা মূহুর্তেই প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেলো।

তারপরও রোহান হিমুর সঙ্গে থাকতে অন্য আইডি থেকে চেষ্টা করেই গেলো। একটা সময় রোহান খেয়াল করলো হইতো হিমু তার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারণে ব্লক করে দিয়েছে। তাছাড়া কথা বলার আগেই এমন কেন হবে। অপেক্ষায় রইলো আবারে কবে সে এক্সেপ্ট করে। এভাবে আরো ১ টা বছর চলে গেলো। তারপরও রোহান হিমুর পিছে ঘুরছে, তার কাছাকাছি থকছেই। একদিন রোহান লক্ষ করলো হিমুর সঙ্গে একটা ছেলের যোগাযোগ মাধ্যমে সংযোগ আছে। ছেলেটা আবার দেশের নাম করা ইন্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে ইন্টার্নি করছে বর্তমানে। তাও সে ভাবলো হিমু রোহানকে বাদ দিয়ে অন্য কাউরে কখনওই গ্রহণ করবে না।
রোহানের বন্ধুরাও সবসময় হিমুর প্রশংসা করে, কারণ হিমু ভদ্র একটা মেয়ে। তো তারপর রোহান তার নেটওয়ার্ক দিয়ে তদন্ত করলো ঐ ছেলেটার বিষয়ে। তদন্ত শেষে তথ্য পেলো হইতো হিমুর সঙ্গে ঐ ছেলের কিছু চলছে রোহান হতাশায় পড়ে গেলো কিছু সবসময় মুখে হাসি। রোহানের ২ টা বছর হলো সময় খারাপ যাচ্ছে। এভাবে হিমুকেও হারালে সে একদম শেষ হয়ে যাবে। এরপরও রোহান হিমুর সঙ্গে একদিন কথা বলে হিমুর থেকে শিউর হতে চাচ্ছিলো সমসময় সে স্বপ্ন দেখতো হিমুকে হালাল ভাবে তার করে পাওয়ার। পারাবারিক ভাবে বিয়ে করে পরিবারের সদস্য করা হিমুকে। আজ হতাশায় রোহানের বেশ কিছুদিন হলো রাতে চোখে ঘুম নাই। একদিন শুক্রবার সন্ধ্যা। রোহান বাইরে একটু ঘুরতে বের হইছে একা। বাসায় ফিরবে এমন সমসয় রাস্তায় হিমুর সঙ্গে তার দেখা সে হিমুর দিকে তাকিয়ে, হিমুরও রাস্তার ঐ পাশ থেকে রোহানের দিকে তাকিয়ে। হিমু পার হয়ে যাওয়ার পর রোহান ভাবলো না আজই হিমুর সঙ্গে কথা বলি।
রোহান দ্রুত হিমুর পিছে গেলো। সে দেখলো একটা শপিং সেন্টারে হিমু গেলো, রোহান হিমুর অপেক্ষায় রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে। হিমু আসলে কি কি বলবে সে সব ভাবছে রোহান। হিমু আসলো রোহানকে দেখেই সে পিছনে ঘুরে গিয়ে রিকশা নিলো রোহান খেয়াল করলো হিমু যখন আসছিলো তখন হিমুর সঙ্গে একটা ছেলে, আর রোহান চিনে ফেললো এটা তো সেই ছেলে। রোহানের রাগ হচ্ছিলো, হিমু রিকশায় চলে গেলো, রোহান একভাবে হিমুর দিকে তাকিয়ে ছিলো দেখলো সে ফোনে কথা বলতে বলতে যাচ্ছে। রোহান সামনে গিয়ে খেয়াল করলো ঐ ছেলেটাও কথা বলছে। রোহানের কাছে সব অন্ধকার লাগছে এসব দৃশ্য দেখে। রোহান বাসায় ফিরছিলো আর ভাবছিলো এতদিন তার কাছে থেকে, তার হওয়া হলো না কি দোষ ছিলো রোহানের। রোহানের কাছে সব যেন অসহ্যকর লাগছিলো, এভাবে রাস্তায় চিন্তা করে যেতে যেতে হঠাৎ একটা গাড়ির সঙ্গে রোহানের এক্সিডেন্ট ঘটে গেলো রোহানকে হাসপাতালে নেওয়া হলো। ওদিকে রোহানের হিমু তার সঙ্গীর সঙ্গে হাসি খুশিতে কথা বলতে বলতে বাসায় যাচ্ছে। একতরফা ভালোবাসা গুলো বিশুদ্ধ হলেও দিন শেষে এভাবেই হইতো পরাজিত হয়ে যায় পৃথিবীর বুকে।
মোঃ রিফাত রহমান রাব্বি
হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ