বেশ কিছুদিন যাবত তানিয়ার সাথে আমার ঝগড়া চলছে। একজন আরেকজনকে যে সহ্যই করতে পারছি না। তানিয়া আমাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে রেখেছে। আর ব্লক না করলেও বা কি আমি আর আগে থেকে মেসেজ দেব না। বার বার কি আমাকেই ভুল স্বীকার করতে হবে না কি। প্রেম করি বলে কি ওর সব কথা শুনতে হবে নাকি। নিজের মধ্যে একটা পুরুষত্বের ভাব নিয়ে এসেছি। বেশ কয়েক দিন যাবত কথা বলি না তারপরও মনের ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। আগে তো একদিন কথা না বলেই থাকতে পারতাম না। সম্পর্কের বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের আচরণেও পরিবর্তন আসে। কথা না বলে যে খুব বেশি ভালো আছি তা-ও কিন্তু না।
মনটাকে ভালো করার জন্য একা একাই হাটতে বের হলাম। বন্ধু-বান্ধবকে আর ডাকি না। কারণ তারা মজা নেয়। একটা ফুলের দোকানের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। দোকানে বেলি ফুল দেখে হঠাৎ তানিয়ার কথা ভীষণ মনে পড়ে গেল। কারণ বেলি ফুল তানিয়ার পছন্দের ফুল। মন ভালো করতে বাইরে এসে মন আরো বেশি খারাপ হয়ে গেল। এবার মনে হয় আর পুরুষত্বের ভাব ধরে রাখতে পারলাম না। এখন কি করবো? তানিয়া তো আমাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে রেখেছে। চাইলেও তো আর মেসেজ দিতে পারছি না। সে অবশ্য আমাকে মেসেজ দিতে নিষেধ করেছে। কিন্তু আমি জানি এটা তার মনের কথা না।
সে আমার মেসেজের জন্য অপেক্ষা করে তাও আমি জানি। অবশেষে এক বন্ধুর মোবাইল থেকে তানিয়াকে মেসেজ দিলাম। আমার নামের মেসেজ পেয়েই কিছুক্ষণ আগে বকাঝকা করলো। তারপর আমি ভুল স্বীকার করে নিলাম। যদিও আমার কোন ভুল ছিল না। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে একটু ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে। কিন্তু তাতেও তার রাগ ভাঙলো না। কিন্তু যখন বেলি ফুলের কথা বললাম নিয়িষেই তার রাগ শেষ হয়ে গেল। আমাকে সব জায়গা থেকে ব্লক খুলে দিল। ঠিক করলাম বিকেল বেলা দুজন মিলে ঘুরতে বের হব। এখন দুপুর। এই দুপুর গড়িয়ে বিকেল যেন হচ্ছেই না। ঘড়ির কাঁটা যেন আটকে আছে।
তানিয়াকে শাড়ি পড়তে বলেছি। আমি পাঞ্জাবি পড়বো। চারটা থেকে ওর বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। উপর থেকে নিচে নামার কথা বলে ৩০ মিনিট পার করে দিল। কিন্তু তাকে দেখে দাঁড়িয়ে থাকার সব কষ্ট যেন নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। সে আজ আমার পছন্দের নীল রঙের শাড়ি পড়ে এসেছে। আজ যেন তাকে প্রথম দেখছি। আজ তাকে দেখে অন্যরকম এক অনুভূতি হচ্ছে। কিন্তু এই অনুভূতি মুহূর্তের মধ্যে আবার রাগে পরিবর্তন হলো।
কারন আমার ইচ্ছা ছিল ওর হাত ধরে হেঁটে হেঁটে আজ সারা শহর ঘুরে বেড়াবো। কিন্তু সে নাকি হাঁটতে পারবে না। তার নাকি রিকশায় ঘোরার ইচ্ছা। নিজের রাগকে কোন রকমে নিয়ন্ত্রণ করে দুইজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম কিছুক্ষণ রিক্সায় ঘুরবো আর কিছুক্ষণ হাঁটবো। তবে আগে রিক্সায় ঘুরতে হবে। কারণ তার কথার দাম নাকি আমার কথার দামের থেকে বেশি। রিকশায় ঘোড়া শেষে তানিয়ার হাত ধরে হাঁটছিলাম। হঠাৎ সে বলে উঠলো আমার ফুল কোথায়। আমি ফুলের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। অথচ এই ফুলের জন্যই আজ আবার একসাথে হাঁটতে পারছি। তাই তানিয়াকে সাথে নিয়েই ফুলের দোকানে গেলাম। দুই দোকান ঘুরে বেলি ফুল পেলাম না।
তানিয়া আর হাঁটতে চাচ্ছিল না। তাই ওকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রেখে আমি তৃতীয় দোকানে দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটা চিৎকার শুনে পিছনে তাকিয়ে দেখলাম একটা গাড়ি তানিয়াকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে। আর পিছন থেকে অন্য একটা গাড়ি ওর উপর দিয়ে চালিয়ে দিয়েছে। ভেবেছিলাম বেলি ফুল কিনে ওর খোঁপায় বেঁধে দেব। কিন্তু সেই ইচ্ছে আর মনে হয় পূরণ হলো না। দৌড়ে গিয়ে ওর রক্তাক্ত দেহটাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কান্না করতে লাগলাম। হঠাৎ কারো ধাক্কায় আমার ঘুম ভেঙে গেল। ঘুমের মধ্যে কান্না করতে দেখে আমার রুমমেট আমাকে জাগিয়ে দিয়ে কান্নার কারণ জানতে চাইল। ওহ তাহলে আমি এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলাম। তানিয়া তাহলে এখনো বেঁচে আছে!
তানিয়া হচ্ছে আমার অপ্রকাশিত ভালোবাসা। যাকে আমি প্রচন্ড রকম ভালোবাসি। কিন্তু তাকে কখনো বলা হয়নি। আসলে তাকে ভালোবাসার কথা বলার মত সাহস আমার নাই। তাই তাকে নিয়ে মাঝেমধ্যেই স্বপ্ন দেখি। কিন্তু এত বাজে স্বপ্ন কখনো দেখিনি। তাও ভাল ঘটনাটা বাস্তবে না হয়ে স্বপ্ন ছিল। তার মানে ওর খোঁপায় বেলি ফুল বেঁধে দেওয়ার সুযোগ এখনো আছে।
মোঃ আসিফ
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

