প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ১৬, ২০২৬, ৬:৩০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৩, ২০২৪, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন ও আমাদের মনোভাব
মেরিনা আহমেদ : সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ঘটনা ঘটিয়েছে বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রনালয়। ২০২৪ এর শিক্ষাবর্ষে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির বিষিয়ভিত্তিক ষাণ্মাসিক পরীক্ষার সমস্টিগত মূল্যায়নের রুটিন প্রকাশ করেছে যা ৭-২২ জুলাই পর্যন্ত দেশ ব্যাপী সকল মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষ ব্যবস্থার এই পদ্ধতি একেবারেই নতুন। কিভাবে দেখাছে আমাদের অভিভাবকেরা এই বিষয় নিয়ে? তাদের মতামতই বা কি? যেখানে অভিভাবকেরা পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় অভ্যস্ত, সেখানে সরকারী রুটিনে ষাণ্মাসিক পরীক্ষায় তাদের প্রস্তুতি কেমন? এ বিষয়ে ডেইলি ঢাকা প্রেসের পক্ষ থেকে কথা হয়েছে কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষকের সাথে। মিরপুর ডি ও এইচ এর একটি পাবলিক স্কুলের ৭ম শ্রেণির অভিভাবক ইফতেখার আহমেদ বিষয়টি ইতিবাচক ভাবে দেখছেন। তার মতে সমষ্টিগত মূল্যায়নের ফলে শিক্ষার্থীরা ব্যপক পরিসরে পরীক্ষা দিতে অভ্যস্ত হবে ও পরীক্ষা ভীতি দূর হবে। ঢাকার বাড্ডার নভেশন স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাতে অভিভাবকের মতে এই পদ্ধতি তার সন্তানের জন্য উপযুক্ত না। তার সন্তানের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ কম। ফলে প্রশ্নপত্র বাইরে থেকে এলে সেটা বুঝে পরীক্ষা দেবার মত ম্যাচুওরিটি তার সন্তানের নেই। যার ফলে সকলের পক্ষে ভালো ফলাফল করা সম্ভব না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নোয়াখালীর একটি সরকারী স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক বলেন নতুন কারিকুলামে তার কিছু ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিমতের কথা। নতুন কারিকুলাম সাজানো হয়েছে অত্যন্ত সহজ পদ্ধতিতে যা ৯০ ভাগ শিখার্থীর কাছে গ্রহনযোগ্য। কিন্তু অতি মেধাবী ১০ ভাগ শিখার্থী এই কারিকুলামে তাদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। শিক্ষকেরা টিজি বা টিচার্চ্র গাইড দেখে নিজেরা যে ধারনা নেন, তা শিক্ষার্থিদের মাঝে পৌঁছে দেবার মত যথেষ্ট মেধাবী তারা নন। তিনি বলেন, আগামি ২০ বছরেও যোগ্য শিক্ষক বিশেষ করে ইংরেজীতে অভিজ্ঞ ও যোগ্য শিক্ষক পাওয়া যাবে না। কারন হিসেবে তিনি বলেন, যে ভালো ইংরেজী বলতে ও লিখতে পারে, তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে অন্য পেশায় বেশি আগ্রহ বোধ করেন। বিষয়টি অবশ্যই সম্মানীর। দলবদ্ধ কাজে বা প্রেসেন্টেশনে ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী নিরব থাকে বা তাদের সেভাবে সুযোগ দেয়া যাচ্ছে না। দলনেতা বা ১০ ভাগ মেধাবী শিক্ষার্থীই সব ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে। তাছড়া ৪ ঘন্টার পরীক্ষা নিয়েও এই শিক্ষকের রয়েছে নেতিবাচক মনোভাব। নতুন কারিকুলাম নিয়ে তর্ক-বিতর্ক যতই থাকুক না কেন, বেশির ভাগ অভিভাবক বিষয়টি ইতিবাচক ভাবে দেখছেন। তাদের আর আগের মত প্রতিটি বিষয়ে প্রাইভেট টিচারের কাছে ছুটাছুটি করতে হচ্ছে না। পি আই জমা দেবার কারনে লিখিত পরীক্ষার চাপটাও কম। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা বাড়ছে, বাড়ছে প্রতিযোগিতার মনোভাব। তবে নেতিবাচক মনোভাবাপন্ন অভিভাভকও নেহায়েত কম না। কেউ কেউ মনে করেন, প্রজেক্ট আর প্রেসেন্টেশনের তথ্য যোগানের জন্য শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত মাত্রায় ও যখন তখন মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করছে, তাদেরকে নির্দিষ্ট সময়ে আবদ্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে কেউ কেউ নেটওয়ার্কে নেশাগ্রস্ত হয়ে পরেছে। অভিভাকদের কেউ কেউ আবার শংকিত আন্তর্জাতিক কারিকুলামের সাথে তুলনা করে। দেশের শিক্ষার্থীদের বিশাল একটা অংশ রয়েছে ইংরেজী মাধ্যমের। তারা এখনো গতানুগতিক কারিকুমাল ব্যবহার করছে। ফলে বাংলা মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পরার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া, দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষা অর্জনে ইচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীরা পরতে পারে বিপাকে। সেখানে যে ধরনের কাগজপত্র বা যোগ্যতার প্রয়োজন, নতুন কারিকুলাম সেই প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পারবে, সময়ই তা বলে দেবে।