
রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে পুলিশ সদস্য মনিরুল হককে গুলি করে হত্যা করেছেন তারই সহকর্মী কনস্টেবল কাউসার আলী। পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, এমন হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থাকতে পারে। তবে কাউসারের পরিবারের সদস্যরা বলছেন— চাকরিরত অবস্থায় প্রায় ১৪ বছর ধরে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি সরকারিভাবে হাসপাতালে গিয়ে মানসিক রোগের চিকিৎসাও নিয়েছেন।
জানা গেছে, অভিযুক্ত কাউসার আলীর বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের দৌলতখালী দাড়ের পাড়া এলাকায়। রোববার (৯ জুন) দুপুরে তার গ্রামের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, মানসিক সমস্যা হলে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কম কথা বলতেন। গেল কয়েক দিনও কম যোগাযোগ করেছেন।
নিলুফার ভাষ্য, স্বামীর ঘটনার বিষয়ে গতকাল শনিবার রাত ৩টার দিকে জানতে পারেন তিনি। ঢাকা থেকে আমজাদ হোসেন নামে পুলিশের এক কর্মকর্তা মোবাইলে বিষয়টি তাকে জানান। এ ঘটনা জানার পর তিনি তার শ্বশুর হায়াত আলীকে জানাননি। তার শ্বশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তার বয়স ৮০ বছর। ছেলের এ ঘটনা জানলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন, এ জন্য তাকে জানানো হয়নি। তবে শাশুড়ি মাবিয়া খাতুনকে জানিয়েছেন নিলুফা।
২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন। ২০০৬ সালের মাঝামাঝি তিনি বিয়ে করেন। বর্তমানে কাওসারের দুই সন্তান। সংসারে কোনো ঝামেলা বা কলহ নেই। নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, শনিবার রাত আটটার দিকে সর্বশেষ কাওসার তার মা–বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তার সঙ্গে কথা হয়েছিল বিকেলের দিকে। সে সময় কাওসার বলেছিলেন, ঈদের ছুটি নেওয়ার জন্য ৪ তারিখ আবেদন করেছেন। এবার ঈদে বাড়িতে আসবেন।
নিলুফা বললেন, ‘কাওসারের মানসিক সমস্যা ছিল। রাঙামাটির বরকলে চাকরি করার সময় তিনি মানসিক সমস্যায় ভোগেন। এরপর বিভিন্ন সময় সরকারিভাবেই তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে অন্তত তিনবার চিকিৎসা করানো হয়েছিল। নিয়মিত ওষুধও সেবন করতেন। কাওসারের কাছে প্রেসক্রিপশনও আছে।’
তবে কাওসার গুলি করে সহকর্মীকে হত্যা করতে পারেন, তা বিশ্বাস করতে পারছেন না তার স্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার এখনো বিশ্বস হচ্ছে না যে গুলি করার মতো কোনো ঘটনা তিনি ঘটাতে পারেন। কীভাবে কী হয়েছে, সেটা বুঝতেছি না।’
নিলুফা জানালেন, কিছুদিন ধরে কাওসার খুবই কম কথা বলতেন। ঈদের কেনাকাটার জন্য বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিলেন। সংসারে কোনো অভাব–অনটন ছিল না। তবে চাকরি নিয়ে খুবই টেনশন করেন তিনি। ছয় ঘণ্টার ডিউটি আট ঘণ্টা হতো। এছাড়া নানা বিষয় নিয়ে তিনি (কাওসার) টেনশন করতেন। এছাড়া তেমন কিছু জানা নেই।
কাউসারের মা মাবিয়া খাতুন বলেন, ‘আমারা ছেলে এমনিতে খুব ভালো। তার মাথার সমস্যা আছে। সে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে অসুস্থ হয়। তার সঙ্গে আমার গতকাল শনিবার রাত ৮টার শেষ কথা হয়। আমার সঙ্গে ভালোভাবেই কথা বলেছে। মা কেমন আছো, আব্বা কেমন আছে জিজ্ঞেস করে। তবে কয়েক দিন ধরে বাড়িতে একটু কম কথা বলত আমার ছেলে।’
গোলাম মোস্তফা কাউসারের প্রতিবেশী। দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘কাউসার চাকরিতে যোগদানের বছর পর থেকে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। পরবর্তীতে তার চিকিৎসা করানোর পরে সুস্থ হলে আবার চাকরিতে যোগদান করেন তিনি।’
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.