Daily Dhaka Press

এবার নষ্ট হয়নি পশুর চামড়া

ঢাকা : দাম কম হওয়ার কারণে ২০১৯ সালে দেশে রেকর্ড পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়েছিল। গত কয়েক বছর সেই ধারা বজায় ছিল। তবে এবারের চিত্র শোনাচ্ছে আশার বাণী। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৮০ শতাংশ চামড়া আড়তে জায়গা করে নিয়েছে। ১৫ শতাংশ ঈদের দ্বিতীয় দিন এবং বাকি ৫ শতাংশ আড়তে ঠাঁই পাবে ঈদের তৃতীয় দিন।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) ঈদের দ্বিতীয়দিন রাজধানীর পোস্তা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চামড়া সংগ্রহের ব্যস্ততা কেটেছে।

পুরান ঢাকার চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের দিনই চামড়া সংগ্রহ করে তাতে লবণ দিয়েছেন তারা। ঈদের দ্বিতীয় দিন চামড়া আসার চাপ বেশ কম। ফলে অনায়াসেই নিজেদের কাজ করতে পারছেন আড়তদাররা।

আড়ত ঘুরে দেখা যায়, কোনো আড়তেই চামড়ায় লবণ দেওয়ার ব্যস্ততা আর তেমনটা নেই। প্রায় প্রতিটি আড়তেই লোকজন হাতেগোনা। কোনো কোনো আড়তে চামড়ার পাশেই শ্রমিকরা ঘুমিয়ে আছেন।

এর আগের বছরগুলোতে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও চামড়া কেনাবেচার ব্যস্ততা দেখা যেতো পোস্তা এলাকায়। তবে এ বছর তেমনটি দেখা যায়নি। এদিন দুপুরে দুই-এক ট্রাক চামড়া দিয়ে আসলেও তা ট্রাক থেকে নামিয়ে নেওয়া ও লবণ দেওয়ার কাজটি হয়েছে বেশ দ্রুত সময়ের মধ্যে।

এদিকে, আড়তের ভেতরে যেতেই চোখে পরে সারি সারি চামড়ার স্তূপ, যা লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের দিন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যেমন চামড়া নিয়ে পোস্তায় এসেছেন, একইসঙ্গে সেই চামড়া কিনে তাৎক্ষনিকভাবে তাতে লবণ দিয়েছেন আড়তদাররা। ঈদের দিন (১৭ জুন) দুপুর থেকে পোস্তা এলাকায় শুরু হওয়া এই কর্মযজ্ঞ চলেছে রাত নয়টা অবধি।

পোস্তার আড়তদাররা জানান, ২০১৯ সালে কোরবানি হওয়া পশুর প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চামড়াই সে বছর নষ্ট হয়েছিল। এবার প্রায় শতভাগ চামড়াই সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

কাঁচা চামড়া কেনা ও লবণ লাগানো ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাউড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএএইচএসএমএ) চেয়ারম্যান আফতাব খান জানান, গতকাল রাত ৯টার মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার ৮০ শতাংশ চামড়া তারা সংগ্রহ করতে পেরেছেন।

আফতাব খান বলেন, ‘আমাদের পোস্তার ব্যবসায়ীদের এবারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখের কাছাকাছি চামড়া সংগ্রহ করা। আমরা সেই অনুযায়ী লবণ কিনে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমাদের পোস্তার আড়তদার, ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতারা মিলে ঈদের প্রথম দিনেই আমাদের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮০ ভাগ চামড়া সংগ্রহ করে। রাত ৯টার মধ্যেই চামড়া কেনা শেষ হয়। এমন কি গতকাল রাতের মধ্যেই লবণ লাগানো হয়েছে।’

ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে চামড়া ব্যবসায়ী সংগঠনের এই নেতা বলেন, ‘আজ দ্বিতীয় দিনে ১৫ ভাগ ও আগামীকাল বুধবার ঈদের তৃতীয় দিনে পাঁচ ভাগ সংগ্রহ করা হবে।’

চলতি বছর কাঁচা চামড়া সংগ্রহের চাপ কেবল পোস্তায় ছিল না। রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায়ও চামড়া সংগ্রহ ও লবণজাত করা হয়েছে। একই কর্মযজ্ঞ চলেছে সাভারের হেমায়েতপুরে।

এ বিষয়ে বিএএইচএসএমএর চেয়ারম্যান বলেন, ‘ঢাকার বেশিরভাগ চামড়া আমাদের কাছে এসেছে। কিছু চামড়া হেমায়েতপুরেও লবণজাত করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি চামড়া লবণজাত করেছেন ট্যানারি মালিকরা। ফলে ঢাকায় চামড়া নষ্ট হয়নি। গতকাল চামড়ার যে দাম ছিল তার তুলনায় আজও ভালো দাম পাচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।’

এদিকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিন ভালো দামে চামড়া কিনছেন পোস্তার আড়তদাররা। গতকাল ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পিস দরে যে চামড়া কেনা হয়েছে, আজ সে সকল চামড়ার পেছনে আড়তদাররা গুনছেন ৮০০ টাকার বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর হাজারীবাগেও এবার চামড়া লবণজাত কারার সুযোগ পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পোস্তায় জায়গার সংকটের কারণে ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাজারীবাগে পুরানো ট্যানারির কারখানাগুলোতে চামড়ায় লবণজাত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আফতাব খান বলেন, ‘পোস্তায় আগের মতো ব্যবসায়ীরা নেই। নানা সংকটের কারণে অনেক ব্যবসায়ী এই খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি পোস্তা এলাকা যে গোডাউনগুলো ছিল, সেগুলো এখন আগের মতো নেই। কারণ, একজন চামড়া ব্যবসায়ী যে গোডাউনের ভাড়া দিতেন ৪০ হাজার টাকা, এখন সেই একই গোডাউন কয়েকগুণ বেশিতে ভাড়া নিয়েছেন প্লাস্টিক ব্যবসায়ীরা।

ফলে বাধ্য হয়ে অনেক ব্যবসায়ী এখন চামড়া কিনতে পারেন না। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছিলাম হাজারীবাগে পুরনো ট্যানারির কারখানাগুলোতে চামড়ায় লবণজাত করার সুযোগ দিতে। আবেদনের প্রেক্ষিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিসিক আমাদের সেই অনুমতি দেয়। অনেক ব্যবসায়ী এখন হাজারীবাগেও চামড়া লবণজাত করেছেন।

পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের তিন দিন যে চামড়া তারা সংগ্রহ করেছেন এবং লবণজাত করেছেন তা তাদের কাছে থাকবে আগামী চার থেকে পাঁচ দিন। ঈদের পঞ্চম দিন থেকে এই চামড়া ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি শুরু করবেন তারা।

এবার ঈদের আগে সরকারিভাবেও চামড়ার দাম বাড়ানো হয়েছে। লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

Exit mobile version