
ইবি প্রতিনিধিঃ আন্দোলনে আন্দোলনে সরগরম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন দাবীতে পক্ষে-বিপক্ষে আন্দোলনে সরব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকাল থেকে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিল ও মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের পক্ষে-বিপক্ষে এসব আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধ কোটা বাতিলের দাবী: চাকরিতে ৩০% মুক্তিযুদ্ধ কোটা বাতিলের দাবী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ ও ছাত্র সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা বিরোধী শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার, জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে; লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে; মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই- ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। বক্তারা বলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ন্যায়ের, সাম্যের কথা বলে। একটি দেশে যখন ৩০ শতাংশ কোটার মাধ্যমে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা হবে তখন যেসব সরকারি অফিসে তারা চাকরি করবেন সেখানে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। ৩০ শতাংশ কোটার ফলে অযোগ্য বা যোগ্যতায় পিছিয়ে পড়া মানুষ চাকরি পাবে ফলে মেধাবীরা এখানে বৈষম্যের শিকার হবে। ফলে দেশের জনগণ সরকারের প্রতি আস্থা হারাবে এবং বিশৃঙ্খলা বিশৃঙ্খল রাষ্ট্রের জন্ম হবে।
কোটা বহালের দাবীতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কমান্ডঃ সরকারি চাকরিতে ৩০% কোটা বহালের দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও প্রজন্ম কমান্ড। বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালের পাদদেশে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে এই দাবী জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ও স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অনস্বীকার্য। আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। আমরা কখনই আমাদের বাবা এবং দাদা যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে, তাদের অবদানকে অস্বীকার এবং তাদেরকে অবমাননা ও কটুক্তি মেনে নিব না। যারা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি। যারা পাকিস্তানের দোসর, যাদের শরীরে বইছে রাজাকার, পাকিস্তানদের রক্ত, তারাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে নিয়ে ট্রল করতে পারে।
পেনশন স্কিম বাতিলে সর্বাত্মক কর্মবিরতিঃ অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক সর্বজনীন পেনশন 'প্রত্যয়' স্কিমের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের সাথে একাত্মতা পোষণ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষক সমিতির ডাকে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এদিন বেলা ১২ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের নীচে শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তারা বলেন, শিক্ষকরা জাতির মেরুদণ্ড কথাটি মুখে বলা হলেও সবচেয়ে জুলুম শিক্ষকদের উপরেই করা হয়। জাহিলিয়াতের যুগেও মহানবী (সঃ) জাতির শিক্ষকরূপে এসেছিলেন। সে যুগেও শিক্ষকদের মর্যাদা ছিল অথচ আজ শিক্ষকদের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। আমরা এই প্রত্যয় স্কিম নামক বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে প্রত্যাহার চাই।
একই দাবীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতিও। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির ডাকে এই কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় বক্তারা বলেন, আমরা চাই, আগের পেনশন স্কিম বহাল থাকুক। সরকারের আমলারা আমাদের পেনশনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার পায়তারা করছে। আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা তাদের এই উদ্দেশ্য সফল করতে দেব না।
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.