প্রসেনজিত চৌধুরী: ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন আয়োজিত ট্যানারি শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি করে নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে মালিকদের অসহযোগিতা ও গরিমসির প্রতিবাদে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন ট্যানারী ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন ট্যানারী শিল্পকে প্রতিনিধিত্বকারী সর্ববৃহৎ ট্রেড ইউনিয়ন, যা প্রায় ৬০ বছর ধরে ট্যানারী শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, পক্ষপাতহীন ও অলাভজনক একটি ক্লাস্টার বেইজড সেক্টরাল ট্রেড ইউনিয়ন।
ট্যানারী শিল্প বাংলাদেশের ২য় রপ্তানিকারক খাত বলে বক্তারা বলেন বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় এই চামড়া শিল্পের জিডিপিতে অবদান প্রায় ০.৩৫ শতাংশ। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৪ শতাংশ এই চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে আসে। বিশ্বের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজারের প্রায় ৩ শতাংশ বাংলাদেশের এ চামড়া শিল্পের উপর নির্ভরশীল। এছাড়া, বৈশ্বিক ফুটওয়্যার প্রোডাক্টের ২ শতাংশই বাংলাদেশের এই ট্যানারী শিল্পের অবদান বলে আখ্যায়িত করে বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, যাদের পরিশ্রমের ফল এই বিপুল পরিমাণ রপ্তানি আয়, কাজের ধরন ও কর্মক্ষেত্রের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় সেই ট্যানারী শ্রমিকেরা তুলনামূলক কম মজুরীপ্রাপ্ত। অথচ তাদের নিরলস পরিশ্রমের কারণেই ট্যানারী শিল্প আজ প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।
এছাড়া, এ শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের প্রায় ২০০টিরও বেশি রাসায়নিক ব্যবহারে দক্ষ দাবি করে বলেন মালিকপক্ষের গড়িমসির কারণে ট্যানারী শিল্পের শ্রমিক ও কর্মচারীদের নতুন মজুরী কাঠামো ঘোষণায় অনর্থক বিলম্ব হচ্ছে যা শিল্পের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও কল্যাণে মোটেও কাম্য নয়। শ্রমিকদের দুর্বিসহ জীবনের চাপে হতাশা এখন চরমে। প্রায় প্রতিটি শ্রমিক এখন ঋণগ্রস্ত, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতিতে দিশেহারা, খাবার ও বাসস্থান খরচ চালাতে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারছে না, জীবনযাপনের ব্যয়ভার বইতে না পেরে পরিবারকে গ্রামে পাঠিয়ে দিতে হচ্ছে, সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিকে নিশ্চয়ই অন্তর্ভুক্তিমূলক বা টেকসই উন্নয়ন বলা যায় না বলে বলেছেন। চলমান প্রেক্ষাপটে এ শিল্পে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে মালিকপক্ষকেই তার দায় নিতে হবে জানিয়েছেন। ট্যানারী শিল্পের সার্বিক ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের সাথে ট্যানারী ওয়ার্কার্স ইউনিয়নও অঙ্গীকারবদ্ধ, তাই দেশে প্রচলিত আইনের যে কোনো ধরনের লঙ্ঘন ট্যানারী ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন শ্রমিকদের স্বার্থে মেনে নিবে না বলেও জানান।
বাংলাদেশ সরকারকে যথাশীঘ্র ট্যানারী শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণে ইউনিয়নের প্রস্তাবের সাথে সংগতি রেখে একটি যৌক্তিক মজুরী কাঠামো ঘোষণা করা জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

