Daily Dhaka Press

‘বিসিএস পাস করে বেকার থাকতে চাই না’

প্রসেনজিত চৌধুরী : জাতীয় প্রেসক্লাবে ৪১তম বিসিএস নন ক্যাডার হতে প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদানের নিমিত্তে ৭ দফা দাবি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ৪১ তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নন ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত এবং দেশের পরীক্ষীত মেধাবীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ৪১তম বিসিএস নন ক্যাডার হতে প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদানের নিমিত্তে যেসব যৌক্তিক কারণ সমূহকে সামনে রেখেছেন।

১। ৪১তম বিসিএসের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে যখন অধিযাচন পাঠানো হয়েছিল ঠিক তার পূর্বেই ৪৫ এবং ৪৬তম বিসিএসের অধিযাচনও পিএসসি প্রেরণ করেছিল। যার ফলে যে পদ গুলো ৪১তম বিসিএস নন ক্যাডারদের পাওয়ার কথা ছিল সে পদ গুলো অন্য বিসিএসে চলে যায়। অর্থাৎ যে সন্তান জন্ম হয়েছে তাকে খাবার না দিয়ে খাবার সংগ্রহ করেছে ভবিষ্যত সন্তানের জন্য। যা চরম বৈষম্যের বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ্য যে, ৪০ বিসিএস পর্যন্ত যে বিসিএস এর রেজাল্ট হয়ে যেত এবং নন ক্যাডারে যারা সুপারিশ প্রাপ্ত হতো শুধু তাদের জন্যই অধিযাচনের মাধ্যমে পদ সংগ্রহ করা হতো।

যে বিসিএস এখনো শুরু ই হলো না তাদের জন্য আমাদের প্রাপ্য পদগুলো পিএসসি জমা করে রাখার কারণে আমাদের ৪১ এর নামে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ কম এসেছে। অন্যথায় ৪০ তম বিসিএস এর ন্যায় ৪১ তম বিসিএস এর সকল নন ক্যাডারের চাকুরি হতো।

২। ৪১তম বিসিএসের যে সকল প্রার্থী ইতিমধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরিতে আছেন, আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে পিএসসি তাদের নিচের গ্রেডে আবেদনের সুযোগ দিয়েছিল। যার ফলে চাকুরি করার ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রার্থী পিএসসি’র এই সুযোগ নিয়েছে। বিসিএস নন ক্যাডার থেকে তারা কোন সুপারিশ পায় শুধু তা দেখার জন্য আবেদন করে এবং নিচের গ্রেডে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর আর পদে যোগদান করেনি। আমরা পিএসসি কে অনুরোধ করেছিলাম, ৩৮তম বিসিএসের ন্যায় নিচের গ্রেডে সুপারিশ না করার জন্য, তখন কমিশন আমাদের জানিয়ে ছিল এটি সাংবিধানিক অধিকার অথচ দুঃখের বিষয় হলো ৪১তম বিসিএস নন ক্যাডারের রেজাল্ট দেওয়ার মাত্র ৭ দিন পর ৪৩তম বিসিএসের চয়েজ লিস্টে নিচের গ্রেডে আবেদন করা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ৪১তম বিসিএসে একই কাজ করলে প্রায় ৫০০ পদ নষ্ট হওয়া থেকে বেঁচে যেত। চাকুরি পেত প্রকৃত বেকাররা।

৩।৪০, ৪১,৪৩ বিসিএস কাছাকাছি সময় হওয়াতে একই প্রার্থী তিন জায়গায়ই চাকুরি পেয়েছে। যার কারণে একদিকে খালি থেকে গেছে অনেক পদ অন্য দিকে বেকার থেকে যাচ্ছে হাজারো তরুণ। ৪। ৪১ তম বিসিএসের অনেক নন ক্যাডার ৪৩তম তে ক্যাডারে সুপারিশ হয়েছে।৪০ তম বিসিএস এর ন্যায় ৪১ তম বিসিএসে ও যদি ৪৩তম বিসিএসের ক্যাডার রেজাল্টের পর ৪১তম দের নন ক্যাডার চয়েজ তালিকা দেওয়া হতো তাহলে অনেক পদ নষ্ট হওয়া থেকে বেঁচে যেত। উল্লেখ্য ৪১ নন ক্যাডার রেজাল্টের মাত্র ২০ দিন পরেই ৪৩তমের রেজাল্ট দেওয়া হয়।

৫। পিএসসিতে বিসিএস ছাড়া অন্যান্য নন ক্যাডারে প্যানেল চালু রয়েছে।

৬। অন্যান্য অনেক দপ্তর যেখানে আগে কখনো প্যানেল হয়নি তারাও সময়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে প্যানেল চালু করেছে।

৭। ৪১তম প্রার্থীরা সকলেই করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত। করোনাকালীন সময় নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। ৩৮তমতে প্রায় সকলেই চাকুরি পেয়েছিল এবং ৪০ তম তে শতভাগ চাকুরি পেয়েছে। একমাত্র ৪১তমরা প্রিলিমিনারি, লিখিত, ভাইভা উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও খালি হাতে ফিরেছে।

৮। চিকিৎসক রা একাধিক বার বিশেষ বিসিএস পেয়েছে কিন্তু প্রকৌশলীরা সে সুযোগ কখনো পায় নি।নন ক্যাডার থেকে পদ খালি থাকার পর ও যদি প্রকৌশলীরা খালি হাতে ফিরে তাহলে তাহলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিদ্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। ৯।২৭ নভেম্বর ২০১৯ সালে প্রকাশিত ৪১ তম বিসিএস সার্কুলারে বলা ছিল নন ক্যাডার পদে নিয়োগ বিধিমালা ২০১০ এবং সংশোধিত বিধিমালা ২০১৪ এর বিধানবলি অনুসরন পূর্বক প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর পদে নিয়োগের লক্ষ্যে কমিশন সুপারিশ প্রদানের উদ্যেগ প্রদান করবে। কিন্তু পিএসসি এই বিধিমালা অনুসরণ না করে আমাদের উপর ২০২৩ এর সংশোধিত নতুন বিধিমালা চাপিয়ে দিয়েছে।

১০। সর্বশেষ নন ক্যাডার বিধিমালা ২০২৩ এর ৬ (ক) ধারাতে উল্লেখ আছে কমিশন সময় সময়, রাষ্ট্রীয় বিশেষ প্রয়োজনে, বিজ্ঞপ্তির পদের সংখা হাস বা বৃদ্ধি করিতে পারবে। সুতরাং, এই ধারা অনুযায়ী ৪১ তম নন ক্যাডারে জয়েন না করায় খালি থাকা পদের সাথে নতুন অধিযাচন দিয়ে লোকবল ঘাটতি থাকা রাষ্ট্রের বিভিন্ন দপ্তর (কারিগরি এবং মাউশি) তে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদান করা সম্ভব।

১১। পিএসসি’র সর্বশেষ নন ক্যাডার বিধিমালা ২০২৩ এ প্যানেল নিয়ে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই বরং বিধির ৮ নং ধারা অনুযায়ী প্যানেল সিস্টেম চালু করা সম্ভব।

১২। ৪১ তম বিসিএস এ উত্তীর্ণ বেশির ভাগ প্রার্থী ই করোনার কবলে পড়ে বয়সের সীমারেখা পার করেছে। তারা আজ সমাজ, পরিবারের বোঝা হয়েছি। তন্মধ্যে অনেকেই নন ক্যাডার থেকে চাকুরি পাওয়ার শেষ ভরসাটুকু হারিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। করোনায় ক্ষতি গ্রস্ত সকল শ্রেনি দপ্তর কে সরকার বিভিন্ন সুযোগ প্রদান করলে ও ৪১ তম বিসিএস করোনায় সবচেয়ে ক্ষতি হওয়া সত্বেও কোন সহানুভূতি পায় নি।বরং স্বীকার হয়েছে পিএসসি’র দুর্নীতি এবং ভুল সিদ্ধান্তের। করোনাকালীন দীর্ঘ দিন কোন সার্কুলার হয়নি এবং করোনার পরবর্তী সময় আগের আবেদন করা ১৪-১৫ টি প্রতিষ্ঠানের সার্কুলারের নিয়োগ পরীক্ষা একই সময়ে সম্পন্ন হওয়ায় একজন ব্যাক্তি এক জায়গায় ই শুধু পরীক্ষা দিতে পেরেছে। অন্য প্রতিষ্ঠানে ফি প্রদান করে আবেদন করা সত্বেও পরীক্ষা দিতে পারেনি। সব দিক থেকেই করোনায় সবচেয়ে ক্ষতি গ্রস্ত ব্যাচ এই ৪১ তম বিসিএস।

তাদের ৭ দফা দাবি সমূহ।

১। অন্যান্য নন ক্যাডারের ন্যায় ৪১তম বিসিএস নন ক্যাডারে প্যানেল চালু করতে হবে।

২। ৪১ তম বিসিএসের নামে আসা কিন্তু জয়েন না করায় খালি থাকা পদ গুলো ৪১তম নন ক্যাডার থেকেই মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করতে হবে।

৩। ১৫০০ মার্কের পরীক্ষায় সকল ধাপ (প্রিলিমিনারি, লিখিত, ভাইভা) উত্তীর্ণ মেধাবীদের কে চাকুরি প্রদান করতে হবে।

৪। বিভিন্ন দপ্তরের ফাঁকা পদ গুলো ৪১ বিসিএস নন ক্যাডার দ্বারা পূরণ করতে হবে।

৫। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর/মাউশি সহ যে সকল দপ্তরে শিক্ষক/জনবলের অভাবে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে সে সকল দপ্তরে অনতিবিলম্বে ৪১ তম বিসিএস নন ক্যাডার হতে নিয়োগ প্রদান করতে হবে।

৬। ৪০ তম বিসিএসের ন্যায় ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার সকল প্রার্থীদের চাকুরি নিশ্চিত করতে হবে।

৭। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং রেজাল্ট টেম্পারিংয়ের সাথে জড়িতদের অনতিবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং দুর্নীতি করে যারা জয়েন করেছে তাদের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।

Exit mobile version