
বারহাট্টা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: সবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলো পরিবারটি। আগুনে পুড়ে সবই শেষ হয়ে গেলো। এই দেখে কিছুতেই নিজের কান্না থামাতে পারছে না আমিন মিয়া (২৪)। নির্বাক তার ছোট ভাই বিল্লাল মিয়া (২১)।
জানা যায়, নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার আসমা গ্রামের আমিন মিয়ার বাড়িতে সোমবার (৭ এপ্রিল) সাড়ে ৯টার দিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আমিন মিয়া এই গ্রামের সাহাবুদ্দিনের ছেলে। কারো সাথে বিবাদ নাই। খুবই পরিশ্রমী। সকলেই তাদের ভালোবাসে। পরিশ্রমের অর্থে খেয়ে-দেয়ে তারা মোটামোটি সুখীই ছিল। কিছু জিনিস পত্র কিনেছিল। আগুনের কারনে তাদের সবকিছুই শেষ হয়ে গেল।
আমিন মিয়া বলেন, সকালে দুইভাই খাওয়া-দাওয়া করে কাজে যাই। মা মারা গেছেন আগেই, বাবা ঢাকায় কাজ করেন। স্ত্রী শশুড়ালয়ে। ঘরে তালা মারা ছিল। আশপাশের লোকজনের ফোন পেয়ে বাড়ি এসে দেখি সব শেষ। কারেন্টের আগুণ। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই স্থানীয়রা আগুণ নেভায়। আমাদের জমি-জমা নাই। মা-বাবা মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে টাকা জমিয়ে আসমা মৌজায় ৫ শতক জায়গা কিনেছিলেন। পরে আমরা সবাই মিলে একটি টিনের ঘর করি, কিছু জিনিষপত্র কিনি। আমি রাজ মিস্ত্রীর কাজ করি, ছোট ভাই হ্যান্ডট্রলি চালায়। মোটামোটি ভালোই চলতেছিলাম। ঘরসহ ৫ লাখ টাকার জিনিস ছিল। আজ সবকিছু শেষ হয়ে গেল। পরনের কাপড়-চোপর ছাড়া আমাদের আর কোনকিছুই অবশিষ্ট নাই।
প্রতিবেশী শফিকুল ইসলাম (৩৫) বলেন, ঘর তালা মারা ছিল। আমরা এসে দেখি ঘরের ভিতর দাউ দাউ করে আগুন জলতেছে। পানি দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করি। দরজা-জানালা ভেঙ্গে ভিতরে গিয়ে পানি ঢালি। এতে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও শেষ রক্ষা করতে পারি নাই। ঘরে থাকা ফ্রিজ, বিছানাপত্র, থালা-বাসন, ডেক-ডেকচি যা কিছুছিল সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। পরিবারটির ভাত খাওয়ার একটি থালাও পর্যন্ত অবশিষ্ট নেই। সবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল পরিবারটি।
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.