Site icon Daily Dhaka Press

বারহাট্টায় নামজারি আটকে থাকায় ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

বারহাট্টা(নেত্রকোনা)প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার  বারহাট্টায় সার্ভার সমস্যার কারণে গত বছরের ২৬ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভূমি অফিসের অনলাইন সেবাগুলো বন্ধ ছিল।ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্দ্যোগে বন্ধ হলেও পরবর্তীতে সারা দেশের ভূমি সেবা স্বাভাবিক হয়।কিন্তুু ভূমি সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো স্বাভাবিক হয়নি বারহাট্টা উপজেলায়।দীর্ঘ ছয় মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনও উপজেলার ৭ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে  অনলাইনে  ই-নামজারির কাজ করতে পারছেন না সেবা প্রার্থীরা ।নামজারীর আবেদন করলে তিন চার মাসেও সেটার নিষ্পত্তি হচ্ছে না।এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পরেছেন হাজার হাজার উপকারভোগীরা।ব্যাহত হচ্ছে রাজস্ব আদায়।

উপজেলার বাউসি ইউনিয়ন ভূমি অফিস,রায়পুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস,চিরাম ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সিংধা ইউনিয়ন ভূমি অফিস,বারহাট্টা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সাহতা ইউনিয়নের ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায় সেগুলোতে সেবাগ্রহীতা নেই বললেই চলে।অথচ উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রতিদিন বহু লোক ভূমিসেবা নিতে আসে। জমির কাগজপত্র ঠিক করা, ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া, ই-নামজারির কাজ করা, খতিয়ান সেবা নিতে ভূমি অফিসে যাওয়া শত শত মানুষ ‘অনলাইন সার্ভার বন্ধ,নেটওয়ার্ক স্লো, পরে আসেন’ এমন বক্তব্য শুনতে শুনতে হতাশ হয়ে পড়েছেন।দীর্ঘদিন ধরে সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় লোকজন এখন আর তেমন একটা আসেন না। ভূমি অফিসগুলো এখন সুনসান।

বারহাট্টা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে মজিদা নামের একজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।মজিদা এই প্রতিবেদককে জানান ২০ শতাংশ জমির নামজারি করব। আড়াই মাস  ধরে ঘোরাঘুরি করছি; কিন্তু নামজারি করাতে পারছি না। সার্ভারের সমস্যা, কখনও অফিসার নেই।কত রকমের যে  অযুহাত তাদের। কবে যে সব ঠিক হবে, সেটাও ভূমি অফিসের লোকজন বলতে পারছেন না।অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী উপজেলা মোহনগঞ্জে ১৫ দিনে কমপক্ষে  ৩০০ নামজারীর আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

চিরাম ইউনিয়নে কথা হয় সোহেল নামের একজনের সঙ্গে।জমি নামজারীর জন্য পাঁচ মাস আগে আবেদন  করেছেন তিনি। কিন্তু পাঁচ মাস ধরে দু–এক দিন পরপর ওই ভূমি অফিসে আসছেন। কিন্তু তিনি নামজারী পাচ্ছেন না। সোহেল বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রি করব। ক্রেতার সঙ্গে সবকিছু ঠিকঠাক করা হয়েছে। কিন্তু রেজিস্ট্রি করে দিতে পারছি না। কারণ, জমি রেজিস্ট্রি করতে নামজারী প্রয়োজন। ওই অফিসে যাচ্ছি আর আসতেছি।অফিসে গেলে তারা বলে এসিল্যান্ড,এই নাই সেই নাই।তাহলে বারহাট্টায় আছে কি। কিন্তু কবে যে নামজারীর কাগজ হাতে পাব সেটাও তাঁরা বলতে পারছেন না। এতে আমার মতো হাজারো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।’

বারহাট্টা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘২৬ নভেম্বর থেকে সার্ভারের সফটওয়্যারের দ্বিতীয় সংস্করণের কাজ শুরু হয়েছে।পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলেও কিছু সমস্যার কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। ফলে আমরা সেবা প্রদান করতে পারছি না। নামজারি ও রাজস্ব আদায়ও ব্যাহত হচ্ছে। তবে খুব দ্রুতই সার্ভার সচল ও নেটওয়ার্ক ঠিক হবে বলে আশা করছি।’

Exit mobile version