বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: চড়া দামে সার, কীটনাশক ও সেচ বিল দিয়ে ধান উৎপাদন করে খরচের সাথে হিসাব মিলছে না কৃষকদের। চলতি বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা। এক মন ধান বিক্রি করলে সাথে আরও ৪ থেকে পাঁচ কেজি বেশি ধান দিতে হচ্ছে কৃষক কে। এতো পরিশ্রম করে ধান উৎপাদন করে বিক্রি করতে গিয়েও হয়রানির শিকার হচ্ছে কৃষক। সরকারি ভাবে শুকনো ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৪০ টাকা। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা যায় এই পর্যন্ত কৃষি অফিস থেকে ২১শ কৃষকের তালিকা এসেছে। তারা গুদামে ধান দেবে বলে আবেদন করেছেন। বারহাট্টা উপজেলায় দু’টি খাদ্য গুদামে ১০৮৯ মেট্রিকটন ধান ও ৬৬৭২ মেট্রিকটন চাল কিনা হবে বলে জানিয়েছে খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আমি গত কয়েকদিন আগে কৃষকদের উদ্দেশ্যে মাইকিং করেছি এর পরও এই পর্যন্ত মাত্র ১ টন ধান কিনতে পেরেছি।
বারহাট্টা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবীর বলেন, আমার কাছে এই পর্যন্ত ৭ টি ইউনিয়ন থেকে ৫৬১ জন কৃষকের তালিকা পৌছেছে। গত মাসের ২৭ তারিখ আনুষ্ঠানিক ভাবে ধান, চাল সংগ্রহের উদ্বোধন হয়েছে। এই পর্যন্ত আসমা ইউনিয়নের গুমুরিয়া গ্রামের মোস্তফা নামের একজন কৃষকের কাছ থেকে ১ টন ধান কেনা হয়েছে। এছাড়া অন্য কোন কৃষক এখনও আসেনি। গুদামে ধান দিতে হলে ১৪% এর উপরে ময়েশ্চারাইজার হলে নেয়া যায় না। তাই হয়তো কৃষকের অনিহা। কিন্তু এই পর্যন্ত ১৬৮ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছে এই কর্মকর্তা।
সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, গুদামে ধান নিয়ে গেলে তারা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়। প্রথমেই ধানের নমুনা নিয়ে আদ্রতা পরিক্ষা করতে হয়। এর পর একেই জায়গায় শুকানো ধান গুলো নিয়ে যাওয়ার পর গুদামের দায়িত্বে থাকা লোকগুলো বলে উপরের বস্তার ধান গুলো ভাল নিচের গুলো ভিজা ইত্যাদি বলে হয়রানি করে।
বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, আমাদের অফিসে আদ্রতা পরিক্ষা করার মেশিন আছে। প্রথমেই যদি কৃষক আমার এখানে অল্প ধানের নমুনা নিয়ে আসে তাহলেই সহজে পরিক্ষা করতে পারে। ১৪% ময়েশ্চারাইজার থাকলে হয়রানি করার সুযোগ নেই। কত জন কৃষক আবেদন করেছে ও এখনও আবেদনের সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বারহাট্টা উপজেলা প্রায় ৩৪ হাজার কৃষক রয়েছে। তার মধ্যে এই পর্যন্ত আমার এখানে ১৬১৬ জন কৃষক গুদামে ধান দেয়ার জন্য আবেদন করেছে। আবেদনের তালিকাটি আজকেই আমি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর পাঠিয়ে দিয়েছি। এখনও আবেদন করার সুযোগ আছে বলে জানান তিনি ।

