Site icon Daily Dhaka Press

ক্রিকেট টুর্নামেন্ট উদ্বোধনে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব

জাবি প্রতিনিধি. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে আয়োজিত নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে প্রচারণার কথা থাকলেও তা ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীর নামে প্রচারণা করলে তোপের মুখে পড়েন শাখা ছাত্রদলের নেতারা। এসময়, উপস্থিত ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

বুধবার (৭ মে) রাত ৮ টা ৪০ মিনিটের দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের মাঠে এ ঘটনা ঘটেছে।

হলের একাধিক শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে হলটিতে নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করছে হলের শিক্ষার্থীরা। সে অনুযায়ী গত বুধবার রাত থেকে দু’দিনব্যাপী এ নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্টটি শুরু হয়। তবে টুর্নামেন্টটি হলের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও উদ্বোধনী ম্যাচের সময় মাঠে ৪ (চার) জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীর নামে ব্যানার টাঙ্গিয়ে প্রচার করা হয়।

এতে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম খেলার উদ্বোধন ঘোষণা করতে গেলে হলের ৪৯ ব্যাচের কাউসার আলম আরমান নামে এক শিক্ষার্থী তাদের কাছে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে খেলা প্রচারের বিষয়টি জানতে চান।

সে সময়, আরমান বলেন, “ক্রিকেট টুর্নামেন্টটি আয়োজনের সাথে তো অনেকেই ছিল। আমরা সকল খেলোয়াড় ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়িত। মিটিং থেকে শুরু করে নিলাম পরিচালনা সব ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছিল। তখন ছাত্রদলের পক্ষে ৪ জনের নাম দিয়ে ক্রিকেট টুর্নামেন্টটির প্রচার করা হবে তা আমাদের বলা হয়নি। কেউ যদি শিক্ষার্থীদের হয়ে স্পন্সর ম্যানেজ করে দিয়ে টুর্নামেন্ট ছাড়ে তাহলে কি টুর্নামেন্ট তার নামে পরিচালনা হয়ে যাবে? তাহলে তারা ওই ৪ জনই টুর্নামেন্ট খেলুক।”

এসময়, উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাঝে বাকবিতন্ডা শুরু হলে উত্তেজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এমনকি ইমন বাবু নামে ছাত্রদলের এক কর্মী আয়োজক খেলোয়াড় আরমানের দিকে তেড়েও যান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্রদলের আহ্বায়ক। পরে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ব্যানারটি খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়ে মাঠ থেকে চলে যান। ব্যানারটি খুলে ফেলার প্রায় পনের মিনিট পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে টুর্নামেন্টটি শুরু হয়।

এসময়, ঘটনাস্থলে তাজউদ্দীন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক খো. লুৎফুল এলাহী এবং প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি ও বিএনপিপন্থি শিক্ষক অধ্যাপক নজরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, ব্যানারে নাম দেওয়া ওই ৪ জনের মধ্যে শাখা ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত হামিদুল্লাহ সালমান, এবং ইমন (বাবু) অন্যতম। সালমান সম্প্রতি হলটির ২২৭ নম্বর কক্ষে উঠেছেন এবং ইমন (বাবু) ৫ই আগস্টের পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাকিদের মধ্যে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাব্বির হোসেন ও রূপক সালমানও রয়েছেন। তাদের কেউ হলটিতে থাকেন না বলে জানা গেছে।

তবে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন হামিদুল্লাহ সালমান মূলত টুর্নামেন্টটি আয়োজনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তিনিই অন্য ৩ জনের নাম ব্যানারে ব্যবহার করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হলের ৫১ ও ৫২ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, হামিদুল্লাহ সালমান আগে এমএইচ হলে থাকতেন। মাঝখানে কিছুদিন শেখ রাসেল হলে ছিলেন। সপ্তাহখানেক হয়েছে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ২২৭ নম্বর কক্ষে উঠেছেন। এর আগে, কক্ষটিতে ৪৬ ব্যাচের ছাত্রদল নেতা সাব্বির ও ৪৭ ব্যাচের রূপক সালমান উঠার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীদের সমালোচনার কারণে তারা হলে অবস্থান করেন না। সাব্বির এখন কামাল উদ্দিন হলে থাকেন। মূলত, হামিদুল্লাহ সালমান হলে নতুন উঠে নিজের পরিচয় বাড়ানোর জন্য নাইট টুর্নামেন্টটি চালুর উদ্যোগ নেন বলে জানিয়েছেন তারা।

হলটির দ্বিতীয় তলার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ই আগস্টের পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা ২য় তলা (পূর্বে ছাত্রলীগের ব্লক হিসেবে পরিচিত ছিল) থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নামিয়ে দেয়। এমনকি হলের ৪৯, ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও ২য় তলার ব্লক ছেড়ে দেয়। কিন্তু সম্প্রতি হামিদুল্লাহ সালমান, সাব্বির, রূপক সালমান হলটির দ্বিতীয় তলায় উঠে ছাত্রদলের ব্লক তৈরীর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল কর্মী হামিদুল্লাহ সালমান বলেন, টুর্নামেন্ট আয়োজনে আমরা কয়েকজন লিডিং পজিশনে ছিলাম, তবে হলের শিক্ষার্থীরা মিলেই খেলার আয়োজন করি। ব্যানারে আমাদের নাম দেওয়াটা ভুলবশত হয়ে গেছে এবং শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যানার নামিয়ে ফেলা হয়েছে। পরে সবার আলোচনার মাধ্যমে খেলা চালিয়ে যাওয়া হয়।

সাব্বির হোসেন বলেন, ছোটভাই হামিদুল্লাহ সালামান সার্বিক সহযোগিতায় আমাদের নাম দিতে গিয়ে ভুলবশত আয়োজনে আমাদের নাম দিয়ে দিয়েছে। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ব্যানার নামিয়ে ফেলা হয়েছে।

রূপক সালমান বলেন, আমার দাদু মারা যাওয়ার কারণে আমি ঢাকায় আসছি। ব্যানারে আমার নাম সাব্বির ভাইরা দিয়েছে শুনেছি কিন্তু সেটা বিস্তারিত জানি না।

এ বিষয়ে জাবি ছাত্রদলের আহবায়ক জহির উদ্দীন বাবর এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও,তিনি কল রিসিভ করেননি।

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক বলেন, আমরা ছাত্রদলের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।এই টুর্নামেন্টের সাথে ছাত্রদলের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম রাশিদুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ঝামেলা হয়েছিল তা তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করেছে। এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই।

Exit mobile version