
সাম্প্রতিক শাহবাগ আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহতদের দাবির পক্ষে কিছু শিক্ষার্থী সমবেত হয়। কিন্তু সেখানকার বাস্তব চিত্র আমি হতবাক। একটি ব্যক্তিগত মিটিং শেষে শাহবাগ এলাকায় প্রবেশ করতেই দেখি, মাত্র ১০–১২ জন যুবকের “আন্দোলন” পুরো শাহবাগ অচল করে দিয়েছে। ভিডিওতে এক তরুণের অশোভন আচরণ এবং ‘TEN’ শব্দের বানান বলতে না পারার মতো লজ্জাজনক অজ্ঞতা ও আচরণে আমি এতটাই অবাক হয়েছিলাম যে ভিডিও করতে বাধ্য হই।
এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সৃষ্টি হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। ভিডিওর তথাকথিত ছাত্রটি পালিয়ে যায় এবং আশেপাশে তেমন কোনো দায়িত্বশীল নেতৃত্ব চোখে পড়লো না। শেষে একজনকে ভদ্রভাবে অনুরোধ করে রাস্তায় ফেলে রাখা বাঁশ সরিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে আসি।
কিন্তু এই ঘটনার কিছুক্ষন আগেই হতাশার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে টিএসসি ও রাজু ভাস্কর্যের কাছে। সেখানে ‘আমরণ অনশন’ লেখা ব্যানারের নিচে কয়েকজন আড্ডায় মেতে আছে। অস্থায়ী তাবুতে ঝোলানো স্যালাইনের প্যাকেট, তাতে নেই কোনো স্যালাইন, নেই আন্দোলনের বাস্তব উত্তাপ, আছে কেবল নাটকীয়তা।
প্রশ্ন ওঠে এটি কি আদৌ কোনো আদর্শিক আন্দোলন, নাকি একটি ঠুনকো দৃশ্যপট, যার উদ্দেশ্য ব্যক্তিস্বার্থ বা দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা?
অথচ এই শাহবাগেই একদিন আমি ও আমার সহযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলনে নেমেছিলাম। আজ মনে হয়, সেই গৌরবময় অধ্যায় কলঙ্কিত হচ্ছে কিছু তথাকথিত ব্যক্তির কারণে। অভুথ্থানের স্পীড নষ্ট হচ্ছে কিছু তথাকথিত ব্যক্তির স্বার্থের কারণে।
আমার আন্দোলন কোন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং প্রতিবাদ ছিলো ১৬ বছরের অপকর্ম, অন্যায় ও স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। আজকের কয়েকজন তরুণদের আচরণ প্রমাণ করে, তারা সেই একই পথের সুবিধাভোগী পথিক যা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নয়, নিজেদের সুবিধার জন্য আন্দোলনের মোড়ক ব্যবহার করছে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা যায়, যাদের অফিস নাই শুধুু কয়েকজনের দাবি, ব্যাকিগত দাবি-প্রতিবাদ সভা ও সম্মেলনের জন্য যেন একটি নির্দিষ্ট আলাদা স্থান বরাদ্দ করা হয়। যেন শহরের জনজীবন ব্যাহত না হয় এবং আন্দোলন বাস্তবেই গণচেতনার প্রতিফলন হয়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক নাটকের মঞ্চ না হয়ে দাঁড়ায়।
বিষয় বিবেচনায় আমার মনে হয়েছে এরা ছাত্র না, ছাত্রবেশে কিছু বেয়াদব? যারা কেবল পরিবেশ নষ্ট করতে এসেছে? মেধাবী ও আদর্শিক ছাত্রদের কণ্ঠ রোধ করতেই যেন এরা সংঘবদ্ধ হয়েছে। ২৪-এর অভ্যুত্থানকে এরা ধর্ষণ করতে উঠে-পড়ে লেগেছে।”
এটি শুধু একজন রানা বর্তমানের প্রশ্ন নয়, বরং তা প্রতিধ্বনি হচ্ছে লক্ষ মানুষের মনে, যারা সত্যিকারের পরিবর্তনের আশায় চোখ রাখে তরুণদের দিকে। আন্দোলন হোক, হোক আদর্শিক, হোক তারুণ্যের আলোয় আলোকিত। কিন্তু তা যেন হয় বাস্তব ও সৎ চেতনায় উজ্জীবিত, কোনভাবে যেন জনভোগান্তির কারণ হয়ে সমাজে বিরক্তির উদ্রেক তৈরি না করে।
লেখক: নাট্য নির্মাতা
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.