ইবি প্রতিনিধিঃ প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন মনের মধ্যে উকি দেয়। প্রত্যেকেই চায় উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নিজের ও পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে, বাবা মায়ের মুখে হাসি ফোঁটাতে। কিন্তু বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও নানা প্রতিবন্ধকতায় অনেক শিক্ষার্থীর পাবলিকিয়ান হওয়াও স্বপ্ন থমকে যায়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এমনই দুই শিক্ষার্থীর ভর্তির ব্যবস্থা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা আনোয়ার পারভেজ।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এ’ ইউনিটে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে না পারা বায়েজিদ বোস্তামি নামক এক মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে নিজ অর্থায়নে উক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তি সম্পন্ন করিয়েছেন এবং পারিবারিক সমস্যায় জর্জরিত থাকা অপর এক নারী শিক্ষার্থী তাসনিম জান্নাতের পুনঃভর্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
জানা যায়, বায়েজিদ বোস্তামি নামক ওই শিক্ষার্থী গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তিপরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়। সে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ইচ্ছা পোষণ করলে ইবিতে আইসিটি বিভাগ প্রাপ্ত হয়৷ এসময় গুচ্ছ নির্ধারিত প্রাথমিক ভর্তি নিশ্চায়ন ফি জমাদানের সময় অর্থাভাবের সম্মুখীন হন। পরবর্তীতে তার অর্থাভাবের বিষয়টি জানতে পেরে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার পারভেজ সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে উক্ত ভর্তিচ্ছুর প্রাথমিক ভর্তি ফি ৫০০০ টাকা পরিশোধ করে দেন।
এছাড়াও, পারিবারিক সমস্যার কারণে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে একাউন্টটিং বিভাগে ভর্তি হলেও নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি তাসনীম জান্নাত নামক আরেক মেধাবী শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে মায়ের অনুপ্রেরণায় এবছর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সাথে আবারো পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করে সে। কিন্তু গতবছর ভর্তি হয়েও পড়াশোনা চালিয়ে না যাওয়ায় কিছু নিয়মতান্ত্রিক জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে জানতে পেরে তার পুনঃভর্তির ব্যবস্থা করে দেন ছাত্রদলের এই নেতা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন বাস্তবে রূপদানে পাশে থাকায় ছাত্রদলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বায়েজিদ বলেন, আমার পারিবারিক আর্থিক অবস্থা একটু দুর্বল। আমার বাবা ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করে সংসার চালান৷ অনেক কষ্ট করে টাকা জমিয়ে আমাকে এডমিশন দেওয়া পর্যন্ত নিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে একবারে এতগুলো টাকা দেওয়া সম্ভবপর ছিলো না৷ আমি ছাত্রদলের ভাইদের কাছে সহযোগিতা চাইলে পারভেজ ভাই নিজেই আমার প্রাথমিক ভর্তির ৫০০ টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন এবং চূড়ান্ত ভর্তির সময়েও পাশে থাকবেন বলে কথা দিয়েছেন। ভাইদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
অপর শিক্ষার্থী তাসনিম বলেন, আমি গত সেশনে ভর্তি হয়েছিলাম কিন্তু পারিবারিক কারণে ভর্তি বাতিল করেছিলাম। তবে পরবর্তীতে আমার মায়ের অনুপ্রেরণায় আবারও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইলে যখন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সম্ভব হচ্ছিলো না তখন আমি সিনিয়র ভাইদের সহযোগিতা চাই। তাদের সহযোগিতায় আমি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ ফিরে পাই। আমি ছাত্রদলের ভাইয়াদের ধন্যবাদ জানাই, বিশেষ করে আনোয়ার পারভেজ ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এবিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান আমাদের রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা। তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় হতদরিদ্র, মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে যেভাবে ভর্তি সহায়তা করে যাচ্ছেন, তা আমাদের শিখিয়েছে—রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতা নয়, এটি হতে পারে মানবিকতার সবচেয়ে উজ্জ্বল রূপ। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমি এই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতি মানে জনসেবা আর ছাত্ররাজনীতি মানে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল অতীতেও শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল, এখনো আছে, এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ।”

