
শনিবার (১২ জুলাই) বিকেল ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিকে সঞ্চালনায় নেতাকর্মীরা সম্প্রতি মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী খুলনার যুবদল নেতাসহ হত্যাসহ সকল হত্যার বিচার দাবি করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান।
ছাত্রদলের জাবি শাখার আহবায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ১ বছরেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে পারেননি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি প্রথম থেকেই এসব হত্যা, ধর্ষণের বিচার করতো তাহলে কেউ এধরণের মব কালচারের পুনরাবৃত্তি করার দুঃসাহস দেখাতো না। দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক মবের ঘটনা ঘটলেও শুধু মিডফোর্টের সামনে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং ছাত্রদলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'যারা সন্ত্রাসী, গুম, খুন, হত্যার সাথে জড়িত তাদের কোন দল নেই। তারা সুবিধাভোগী। যারা এসবের সাথে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।'
শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বলেন, খুনি হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম দেশ থেকে ফ্যাসিজমের মুক্তি হবে। সকল গুম, খুন ও বিচার বহির্ভূত হত্যার সঠিক বিচার হবে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবনতির ফলে পূর্বের থেকেও বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই বেড়ে গেছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় প্রত্যেকটা খুনকে আমরা একটি দল ও মত দিয়ে বিচার করছি, যেটা কখনোই আমরা পারিনা। একটি হত্যাকে সব সময় হত্যা হিসেবেই বিচার করা উচিত, হত্যাকারী যে কোন দলের কর্মী হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গত ৯ জুলাই মিটফোর্ডে যে হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে, তার সাথে বিএনপি'র নামকে জড়ানো হচ্ছে। কিন্তু বিএনপি কখনোই এই হত্যাকে সমর্থন করে না বরং তাদেরকে বহিষ্কারের পর ইন্টেরিম সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এর বিচারের অনুরোধ করেছে। এছাড়া গতকাল খুলনাতে যুবদল নেতাকে গুলি করে, পরবর্তীতে রগ কেটে একটি দলের অনুরূপ হত্যা করা হয়েছে। আমরা মনে করি প্রত্যেকটি হত্যারই বিচার হওয়া দরকার।
এছাড়া শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য আবিদুর রহমান বলেন : বাংলাদেশের ইতিহাসে সোহাগ হত্যা জাহিলিয়াতকেও ছাড়িয়েছে। দিনের পর দিন হত্যা, গুম, খুন, ধর্ষণ বেড়েই চলেছে। কিন্তু অন্তরবর্তিকালীন সরকার কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে না। খুলনার হত্যাকান্ডের পর সেটাকে ঢাকতে দুইদিন আগের ভিডিও সামনে এনে রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে কেউ কেউ। এরকম বিচারহীনতায় প্রশ্ন জাগে সরকার নিজেই সূক্ষ চাল চালছে কিনা। 'মিডিয়া কেন সোহাগ হত্যা সামনে আনে নি? পুলিশ কেন নিউজের আগে কাউকে গ্রেপ্তার করে নি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া জরুরি। হত্যাকারীদের অবিলম্বে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ।
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.