
ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২৪: বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কালো দিন—যেদিন যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন অন্তত ৫২ জন মানুষ। কেউ ছাত্র, কেউ শ্রমিক, কেউবা পথচারী। কিন্তু সবার পরিচয় এক—তারা ছিল সাধারণ মানুষ।
এই গণহত্যা শুরু হয়েছিল জুলাই মাসেই। ধাপে ধাপে সাজানো হয়েছিল এক ভয়ঙ্কর নীলনকশা। এবং এই রক্তাক্ত পরিকল্পনার অন্যতম কুশীলব ছিলেন যাত্রাবাড়ীর আলোচিত গ্যাং নেতা, ঢাকা দক্ষিণ সিটির তৎকালীন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আহাম্মেদ ইমতিয়াজ মান্নাফি ওরফে গৌরবের ঘনিষ্ঠ ন্যাশনাল ওয়েল্ডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের মালিক শাহিদ খান পাপ্পু।

পাপ্পু—যিনি একসময় ওয়েল্ডিং কারখানার আড়ালে ব্যবসা চালাতেন, আজ তার নাম উচ্চারিত হয় ভয় আর ঘৃণার সঙ্গে। তার কারখানাই ছিল গ্যাং ও অবৈধ অস্ত্রের আঁতুড়ঘর। কাউন্সিলর গৌরবের ছত্রছায়ায়, সেখানে তৈরি হয়েছিল একটি আধা-সামরিক সন্ত্রাসী বাহিনী—যারা পুলিশের সহায়তায় চালায় হত্যাযজ্ঞ।
নিহতদের একজন ছিলেন কারখানার সুপারভাইজর আসাদুল হক। কোনো রাজনীতি নয়, কোনো ষড়যন্ত্র নয়—শুধু ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকার কারণে বুকের ডান পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে লাশ হয়ে যান তিনি।
স্থানীয়রা বলছেন, পাপ্পু শুধু অস্ত্র সরবরাহ করেননি—তিনি ছিলেন এই হত্যাযজ্ঞের একেবারে কেন্দ্রে। তার কারখানায় পরিকল্পনা হতো কারকে সরিয়ে দিতে হবে, কে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে, কার মুখ বন্ধ করতে হবে। সেই অনুযায়ী চলত হামলা।
অথচ আজও পাপ্পু ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। প্রতিদিন তার কারখানায় নিয়মিত বসেন, ব্যবসার হিসাব মেলান, আর রাষ্ট্রব্যবস্থা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।
নিহতের পরিবার হাহাকার করে বলে, “আসামিরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, আর আমরা আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সুবিচারের প্রহর গুনি।”
এই রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, ইতিহাসে শাহিদ খান পাপ্পুর নাম লেখা থাকবে গণহত্যাকারী, অস্ত্র সরবরাহকারী, এবং একজন নিকৃষ্টতম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী হিসেবে।
জুলাই গণহত্যা কোনো দুর্ঘটনা নয়—এটা ছিল পূর্বপরিকল্পিত এক রক্তাক্ত অভিযান, যার নেতৃত্বে ছিলো পাপ্পুর মতো রাক্ষসরা।
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.