Site icon Daily Dhaka Press

বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের ভয়ে ক্যাম্পাসছাড়া জাবি ছাত্রদলের সুপার ফাইভ!

জাবি প্রতিনিধি: গত শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের বর্ধিত ও হল কমিটি গঠনের পর থেকে শুরু হয় নানা আলোচনা সমালোচনা। ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে হল কমিটিতে রাখা হয় সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী, মাদক ও ছিনতাইয়ে বহিষ্কৃত, ভ্রুণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সহ নানা বিতর্কিত ব্যক্তিদের। কমিটি ঘোষণার পর ঐদিন রাতেই প্রতিবাদ মিছিল বের করেন শাখা ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এ প্রতিবাদের পরে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের ভয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন না জাবি ছাত্রদলের সুপার ফাইভ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্ধিত ও হল কমিটি দেওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্যকর অবস্থা বিরাজ করছে। বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি দেওয়ার পরই তারা প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। প্রতিবাদ মিছিল শেষে সুপার ফাইভের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফয়সাল হোসেনের নিকটস্থ অনুসারী যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মেহেদী হাসানকে ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেন। সুপার ফাইভ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের দ্বারা বিতাড়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কমিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, হল কমিটিতে ১৭ টি হলের মধ্যে ১০ টি হলে সাবেক ছাত্রলীগের কর্মীদের জায়গা মিলেছে, তবে বাদ পড়েছে ছাত্রদলের ত্যাগীরা। হল কমিটিতে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক অথবা সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল সভাপতি কাজী মৌসুমি আফরোজ, শহীদ সালাম বরকত হল সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আলিফ, ১০ নং হল সভাপতি সাইফ বিন মাহবুব, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন মোল্লা, ২১ নং হল সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ রিমন, সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান সীমান্ত, শহীদ রফিক জব্বার হল সভাপতি মো. জাহিদ খান, শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ হল সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসান মাহমুদ, মীর মশাররফ হোসেন হল সাধারণ সম্পাদক সোহাগ আহমেদ, ফজিলাতুন্নেসা হল সাধারণ সম্পাদক সাবরিনা সুলতানা সুরভী, কামাল উদ্দিন হল সিনিয়র সহ-সভাপতি খায়রুল ইসলাম নাহিদ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাকিব মাওলা প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

এদিকে হল কমিটিতে নাম,‌ জানেন না সভাপতি-সম্পাদক নিজেরাই এমন ঘটনাও ঘটেছে। প্রীতিলতা হলের সভাপতি হুমায়রা মারিওম হিমি ও নবাব ফয়জুন্নেসা হলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন উম্মে হাবিবা বেলী কিন্তু এ বিষয়ে কেউই জানতেন না বলে জানিয়েছেন। হল ও বর্ধিত কমিটিতে পদ পেয়েছে ছাত্রলীগ কর্মী সহ, মাদক সংশ্লিষ্টতা এবং ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত, ভ্রুণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার অভিযোগ তুলে একাধিক নেতাকর্মী জানান, বিতর্কিতদের কমিটিতে যুক্ত করার অন্যতম কারণ সুপার ফাইভ কোরাম। সুপার ফাইভের স্বেচ্ছাচারিতায় বলি হয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ত্যাগীরা প্রস্তুত রয়েছে। তাদের মূল্যায়ন না করে, বরং ‘মাই ম্যান’ কমিটি দিতে গিয়ে ছাত্রলীগ সহ বিতর্কিত লোকদের জায়গা দেওয়ার মাধ্যমে সুপার ফাইভ প্রমাণ করেছে তারা শাখা-ছাত্রদলের নেতৃত্বের অযোগ্য, অথর্ব। প্রথম থেকেই তারা শাখা ছাত্রদল নিয়ে উদাসীন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আল মামুন বলেন, জাবিতে ছাত্রদলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না হওয়ার অন্যতম কারণ সুপার ফাইভের গ্রুপিং। গ্রুপিংয়ে তারা ছাত্রলীগকে হল কমিটির নেতৃত্ব দিতে পারে কিন্তু গ্রুপের বাইরে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করতে রাজি নয়। তাদের গ্রুপিংয়ে আজ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীর বলি হয়েছে। সকলের সাথে আলোচনা ছাড়াই নিজেদের খেয়ালখুশিমত কমিটি দিয়েছে তারা। এখন প্রতিবাদ করার সময় এসেছে, সুপার ফাইভের বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দাঁড়াতে হবে, তা না হলে বিএনপি’র ভাবমূর্তি ধ্বংস করে ফেলবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের মর্জুক বলেন, ২০১২ সালে আমি হলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম। স্বৈরাচার আমলে মামলা এবং ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়। বর্ধিত কমিটিতে ৩৮ ব্যাস থেকে ৫৩ ব্যাচ পর্যন্ত অনেকেই পদ দেয়া হয়েছে কিন্তু আমাকে রাখা হয়নি। আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দিয়েছে। কমিটিতে যেখানে ছাত্রলীগ, মাদক সংশ্লিষ্ট এবং বিতর্কিতদের জায়গা হতে পারে কিন্তু আমার মত ছেলের জায়গা হয়নি। এই কমিটি একটি অথর্ব কমিটি। এই কমিটি ‘মাই ম্যান’ কমিটি করতে গিয়ে সারা বাংলাদেশে আজ বিএনপি’র ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শাখা ছাত্রদলের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করার আহ্বান জানাচ্ছি।

এদিকে সুপার ফাইভের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আফফান আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফয়সাল হোসেন এবং সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীককে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন হাবীব হিরণ বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা ক্যাম্পাস এই অবস্থান করছি।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, না এমন কিছু হয়নি। আমি ক্যাম্পাসেই আছি।

Exit mobile version