Site icon Daily Dhaka Press

জাবিতে সহপাঠীকে মারধরের ঘটনায় বহিষ্কার ১, অর্থদন্ড আরো ১

জাবি প্রতিনিধি : সহপাঠীকে মারধরের ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ২ শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনকে বহিষ্কার ও অন্য একজনকে অর্থদন্ড প্রদান করেছে
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গত ৪ আগস্ট (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সিন্ডিকেট বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। মিটিং পরবর্তী সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ এই সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রক্টর অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মোঃফাইজার রহমানকে ৩ মাসের বহিষ্কার ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা। ৫২ তম ব্যাচের একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আলিফ বিন মোহাব্বতকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।এছাড়া, আরেকজন অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সর্তক করা হয়েছে। এ সাজা সিন্ডিকেটর তারিখ হতে কার্যকর হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী বহিস্কৃত কেউ বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। একই সাথে তিনি হলেও অবস্থান করতে পারবেন না।’

এ বিষয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি
নাজমুল হুদা সাকিব বলেন, “আমি এখনো এই বিষয়ে জানি না। সাজার বিষয়ে বিভাগে কোন নোটিশ আসে নি।”

বহিষ্কৃত কেউ ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে কিনা সেবিষয়ে তিনি বলেন- “বহিষ্কৃত কারো সাজা কার্যকর হওয়ার পর ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। যদি করে থাকে তবে তা পরীক্ষা কমিটির সভাপতির সহায়তায় বাতিল করা হবে। তবে তাদের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক তারানা বেগম। যিনি ছুটিতে থাকায় আগামীকাল বিভাগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

বহিষ্কৃত একজন কিভাবে হলে থাকেন তা জানতে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট (সাময়িক দায়িত্বে) অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে মটোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও সম্ভব হয় নি।

এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন,“আমি এই রায়ে মোটেও সন্তুষ্ট নই। আমাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করলেও একজনকে শুধু তিন মাসের বহিষ্কার ও সামান্য জরিমানা করা হয়েছে। আরেকজনকে কেবল পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এটা আমার সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের তুলনায় খুবই কম শাস্তি। আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থী এমন ঘটনার শিকার না হয়। তাই আমি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে ডিপার্টমেন্টের মেসেঞ্জার গ্রুপের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফাইজার এর নেতৃত্বে আলিফ ও নোমান তাদের বিভাগের সহপাঠীকে রুম থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে ও হুমকি দেয়।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ২০২৪ সলের ১০ ডিসেম্বর সরকার ও রাজনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ ও প্রক্টর বরাবর অভিযোগ করেন।

Exit mobile version