
জাবি প্রতিনিধি : প্রায় ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাহঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। বহু প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চলছে ব্যাপক তোড়জোড়। প্রায় সব ছাত্রসংগঠনই প্রার্থী চূড়ান্তকরণ এবং প্রচারণায় সরব হলেও ছাত্রদল এখোনো প্যানেল দেয়নি। তবে প্যানেল দেওয়ার আগেই ছাত্রদলের প্যানেলের মধ্যে মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারী কর্মীরা এগিয়ে আছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
ছাত্রদলের একটি সূত্রে জানা যায়, জাকসুকে সামনে রেখেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষাথীদের দিয়ে হল কমিটি দেওয়া হয়েছে। তবে পাচঁ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পূর্বে যেসকল ছাত্রদল কর্মী বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছিল ও ত্যাগ শিকার করেছে এবং পাচঁ আগষ্টের পর ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সামাজিক ও সেচ্চাসেবী কাজ করে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এমন প্রার্থী নির্বাচন করবে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে ছাত্রলদলের শীর্ষ পদের দৌঁড়ে কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম চর্চিত হচ্ছে।
ভিপি পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাকিরুল ইসলাম, প্রাণরসায়ণ এবং অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল গাফফার জিসান, বাংলা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শেখ সাদী,দর্শন ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাসেল আকন্দ , নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. নাঈম খন্দকার, ইংরেজী বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হামিদুল্লাহ সালমান।
এদের মধ্যে জোরালো আলোচনা রয়েছে চারজন।
এর মধ্যে জোর আলেচনায় রয়েছেন, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শিক্ষার্থী জাকিরুল ইসলাম। তিনি পাচঁ আগষ্টের পূর্বে ছাত্রদল কর্তৃক বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। গণঅভ্যুত্থানের পুরোটা সময় আন্দোলনের সামনের সারিতে থেকে আন্দোলন করেছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের খাবার-পানি সংগ্রহ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেন তিনি।
পাচঁ আগস্টের পরেও তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করে যাওয়ায় ক্যাম্পাসে তার ব্যাপক সুনাম রয়েছে। তিনি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আশুলিয়া থানায় স্বারকলিপি দিয়েছিলেন এবং সি এন্ড বি থেকে মীর মশাররফ হোসেন হল পর্যন্ত মহাসসড়কে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করেছেন। যেখানে ঝোপঝাড়ের কারণে নিয়মিত ছিনতাই হতো।
এছাড়াও জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার বিচারের দাবি নিয়ে সবসময় কাজ করেছেন তিনি। ফ্রি স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপী ক্যাম্পের আয়োজন করেছেন, জুলাই স্মরণে বৃক্ষরোপণ করেছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং জাবি মেডিকেল কে আরো উন্নত ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিয়েছেন। পাখিদের অভয়ারণ্য সংরক্ষণে তিনি সতর্কতামূলক ফেস্টুন স্থাপন করেছেন। এরকম নানাবিধি কাজ তিনি নিয়মিত করার কারণে ক্যাম্পাসে পরিচিত লাভ করেছেন।
আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মেধ্যে আরেকজন হলেন আব্দুল গাফফার জিসান। তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে স্বৈরাচার সরকারের বিদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন৷ দলীয় নির্দেশে এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের সাথে সমন্বয় করে আন্দোলনকালীন পুরো সময়টা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ক্যাম্পাসে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন পিডিএফ’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ‘সুবর্ণ নাগরিক এওয়ার্ড’ পেয়েছেন। অন্যদিকে তিনি ৫ আগস্টের পূর্বে ছাত্রদলের নিয়মিত কমসূচীতে অংশ নিতেন।
আরেক আলোচিত প্রার্থী মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রদলের সভাপতি শেখ সাদী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শুরু থেকেই সরব ছিলেন তিনি৷ নাটকের মঞ্চে অভিনয় থেকে শুরু করে বাংলা সংসদের শিক্ষা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন এই নেতা৷ এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারিতে ছিলেন তিনি। গণঅভ্যুত্থান পূর্ববর্তী সময়ে শাখা ছাত্রদলের মিটিং মিছিলে পরিচিত মুখ শেখ সাদী৷ জুলাই আন্দোলন পরবর্তীকালে শাখা ছাত্রদল আয়োজিত প্রতিটি প্রোগ্রামেই নিয়মিত অংশ নিয়েছেন এই নেতা৷ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয়ও তিনি৷ তাই তার সম্ভাবনা অনেকটাই প্রবল বলে করছেন শাখা ছাত্রদলের অনেক নেতা।
আলোচনায় আছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ছাত্রদলের সভাপতি হামিদুল্লাহ সালমান। তিনি গণঅভ্যুত্থানের আগে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা নির্যাতনের স্বীকার হয়ে আলোচনায় আসেন৷ গণঅভ্যুত্থান পূর্ববর্তী সময় থেকে শাখা ছাত্রদলের নিয়মিত কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন বলে জানা যায়৷ এছাড়া গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারির পরিচিত মুখ তিনি। তবে ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লা হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিতর্কিত হয়ে পড়েন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার দিয়ে ছিল এবং তিনি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় আইনে হত্যা মামলার আসামি।
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.