স্টাফ রিপোর্টার (কিশোরগঞ্জ থেকে): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণদের হাতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা বিএনপি বহন করছে, সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদি-পাকুন্দিয়া) আসনের জনগণও খুঁজছে এক নতুন ও সাহসী নেতৃত্ব। বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, এ আসনে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী, কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানার বনগ্রাম ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারের সন্তান, এডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন।
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তিনি শুধু সক্রিয় অংশগ্রহণই করেননি, বরং সরাসরি রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে তাঁর দৃঢ় অবস্থান, তরুণ নেতৃত্বের বলিষ্ঠ উপস্থিতি এবং আপোষহীন সংগ্রামী চেতনা ইতোমধ্যেই জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আশরাফ জালাল খান মনন ২০০০ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন।
২০০১ সালে তিনি তৎকালীন ৩৬ (বর্তমান-১৩) নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত চামেলীবাগ ইউনিটের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ছাত্রদলের আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
২০০৩ সালে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অধীনে পল্টন থানা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের রাজীব-আকরাম কমিটির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করার পর তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির ইতি টানেন।
এ সময়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেন। তাঁর মেয়াদকালে সংগঠনটি সারাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ৩৮টি জেলা সমপর্যায়ের ইউনিট কমিটি গঠন সম্পন্ন করে। তিনি ছিলেন আইন ছাত্র ফোরামের সর্বশেষ নির্বাচিত সভাপতি।
তাছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ঢাকা বার ইউনিটের এজিএস এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-শিক্ষানবিশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একইসাথে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল টুকু-মুন্না কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন এবং যুবদলের বিভিন্ন উপ-কমিটির দায়িত্ব সক্রিয়ভাবে পালন করেছেন।
এছাড়া তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এর আজীবন সদস্য এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন "লিগ্যাল এইড সেল" কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আশরাফ জালাল খান মননের পিতা এডভোকেট আরফান উদ্দিন খান একজন সুপরিচিত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। তিনি ঢাকা মহানগর বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আইন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মানিত উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ফোরামের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ঢাকা মহানগর আইনজীবী সমিতি ইউনিটের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৯১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী এলাকায় বিএনপির রাজনীতিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন এবং জনগণের সেবা করার জন্য একাধিকবার মনোনয়ন প্রার্থনা করেছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী থানার বনগ্রাম ইউনিয়নে আশরাফ জালাল খান মননের বাবা-দাদার আমল থেকে প্রায় ৯৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ফলস্বরূপ, কটিয়াদীর ভোটের মাঠে আশরাফ জালাল খান মনন ও তাঁর পরিবার একটি সুপরিচিত নাম ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
আশরাফ জালাল খান মনন বিভিন্ন সময় আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে গ্রেফতার হয়েছেন, কারাভোগ করেছেন এবং অসংখ্য গায়েবি ও মিথ্যা মামলার সম্মুখীন হয়েছেন।
তিনি বহুবার পুলিশের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। আন্দোলনের মিছিলে অংশগ্রহণকালে পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হন একাধিকবার। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হন এবং তাঁর গাড়িতে ব্যাপক গুলি করা হয়, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়, যা দেশের সব গণমাধ্যমে প্রচারিত হয় এবং যুবদলের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ এর আন্দোলনে তিনি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সরাসরি উপস্থিত থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এর নির্দেশে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সক্রিয় ভূমিকা দেশের মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করেছে।
এর আগে ২০০৭ সালের ১/১১-এর জরুরি অবস্থা থেকে শুরু করে ২০১৩-১৪-১৫ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলনে রাজপথে তাঁর উপস্থিতি সবসময় ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি আন্দোলন সংগ্রামের অগ্রভাগে থেকে নিজেকে একজন সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
পেশাগত জীবনে রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন সম্মানিত আইনজীবী। বর্তমানে তিনি সুনামের সাথে রাজউক, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উনার স্ত্রী এডভোকেট ফাতেমা নূর নাজমুন বাংলাদেশের এসিস্ট্যান্ট এটর্নি জেনারেল হিসেবে কর্মরত আছেন।
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.