
থাইল্যান্ডের প্রভাবশালী সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য সংসদীয় ভোটের একদিন এবং আদালতের তার বিরুদ্ধে একটি মামলার রায়ের ৫ দিন আগে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি দেশত্যাগ করলেন। ওই রায়ে তার কারাদণ্ড হতে পারে।
প্রতিদনের আরও বলা হয়, ১৫ বছর স্ব-আরোপিত নির্বাসনে কাটানো ধনকুবের থাকসিনের প্রস্থান এমন এক সময়ে ঘটল, যখন তার প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতাসীন ফিউ থাই দলের জোট সরকার অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। শুক্রবারের হাউস ভোটের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কাছ থেকে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে দলটি।
অন্যদিকে আগামী মঙ্গলবার, সুপ্রিম কোর্ট থাকসিনের সাথে সম্পর্কিত একটি মামলার রায় দেবে যেখানে তাকে কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। ২০২৩ সালে থাইল্যান্ডে ফিরে আসার পর চিকিৎসার কারণে হাসপাতালে থাকায় তার পুরো আটকাদেশ এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
থাই পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, থাকসিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৭ মিনিটে একটি ব্যক্তিগত বিমানে ব্যাংককের ডন মুয়াং বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করেন। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে তার দেশ ত্যাগে কোনও আদালতের নিষেধাজ্ঞা নেই।
অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকারদের মতে, থাকসিনের বিমান, যার নম্বর T7GTS, প্রথমে সিঙ্গাপুরের দিকে উড়তে দেখা গিয়েছিল কিন্তু তারপর মালয়েশিয়ার ওপর দিয়ে ভ্রমণ করে এবং আরও পশ্চিমে আন্দামান সাগরের দিকে যাত্রা করে।
এদিকে, থাকসিনের আইনজীবী উইনিয়াত চ্যাটমন্ট্রি রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি থাকসিনের দেশত্যাগের বিষয়ে অবগত নন। তবে তিনি বলেছেন যে, থাকসিনকে দেশত্যাগ করতে নিষেধ করার আদালতের কোনো নির্দেশনা নেই।
অন্যদিকে, ফিউ থাই পার্টির একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, থাকসিন মেডিকেল চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুরে গেছেন এবং শুক্রবার থাইল্যান্ডে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে জুলাই মাসের শুরুতে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয় থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে। এরপর দেশটির সাংবিধানিক আদালতও পেতংতার্নকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণের পক্ষে রায় দেয়। মাত্র এক বছর ক্ষমতায় থাকা পেতংটার্ন ছিলেন কোটিপতি সিনাওয়াত্রা পরিবারের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী বা তাদের সমর্থিত সদস্য।
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.