
অবশেষে জট খুলেছে পদোন্নতির। পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)-এ দীর্ঘদিন পর বহু প্রতীক্ষিত পদোন্নতি প্রদান করা হলো। বিভিন্ন গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন এক হাজার বায়ান্ন জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীর্ঘদিন পর পদোন্নতি পেয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে চলেছে।
বিগত ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ পিডিবিএফ-এ দীর্ঘদিন প্রতীক্ষার পর অবশেষে টি গ্রেডে ১০টি পদে মোট ১,০৫২ জন কর্মকর্তা- কর্মচারীকে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। যুগ্মপরিচালক (গ্রেড-৪) থেকে অতিরিক্ত পরিচালক (গ্রেড-৩) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ০২ জন, উপপরিচালক (গ্রেড-৫) থেকে যুগ্মপরিচালক (গ্রেড-৪) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ০৮ জন, সিনিয়র সহকারী পরিচালক/সিনিয়র দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা (গ্রেড-৭) থেকে উপপরিচালক (গ্রেড-৫) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ৫০ জন, সহকারী পরিচালক/উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা (গ্রেড-৯) থেকে সিনিয়র সহকারী পরিচালক/সিনিয়র দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা (গ্রেড-৭) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ৮৬ জন, সহকারী প্রোগ্রামার (গ্রেড-৯) থেকে প্রোগ্রামার (গ্রেড-৭) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ০২ জন, সহকারী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা/উপ-সহকারী পরিচালক (গ্রেড-১০) থেকে সহকারী পরিচালক/উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা (গ্রেড-৯) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ১০৫ জন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (গ্রেড-১০) থেকে সহকারী পরিচালক-হিসাব (গ্রেড-৯) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ১৯ জন, সিনিয়র মাঠ কর্মকর্তা/প্রশাসনিক কর্মকর্তা (গ্রেড-১১) থেকে সহকারী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা/উপ-সহকারী পরিচালক (গ্রেড-১০) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ৩৩৪ জন, সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (গ্রেড-১১) থেকে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (গ্রেড-১০) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ৫১ জন এবং মাঠ কর্মকর্তা (গ্রেড-১২) থেকে সিনিয়র মাঠ কর্মকর্তা (গ্রেড-১১) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ৩৯৫ জন। এই পদোন্নতি শুধু সংখ্যার দিক থেকে নয়, অতিসম্প্রতি পিডিবিএফ-এ স্থায়ী পদে জনবল নিয়োগের ন্যায় স্বচ্ছতা ও বিশুদ্ধতার মানদণ্ডে এই পদোন্নতি পিডিবিএফ-এর ইতিহাসে একটি মাইলফলক।
বিগত ২২ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে পিডিবিএফ-এর বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব গ্রহণের পর মূলত পিডিবিএফ-এ নতুন নবজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি একের পর এক চমক দেখিয়ে চলেছেন। প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন। বিগত পঁচিশ বছরে পিডিবিএফ-এর ইতিহাসে যা করা সম্ভব হয়নি, তিনি অত্যন্ত দৃঢ়চিত্তে সেগুলো সফলতার সাথে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। পিডিবিএফ সৃষ্টির পর এ যাবৎ বহু প্রচেষ্টা চালানোর পরও প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের জন্য নিজস্ব জমি ও ভবনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিডিবিএফ-এ যোগদান পরবর্তী স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই প্রধান কার্যালয়ের ভাড়াকৃত ভবনটি জমিসহ ক্রয় করে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরে বিভিন্ন অনিয়ম, নৈরাজ্য, নিয়োগ, বদলী-পদায়ন ও পদোন্নতি বাণিজ্য বন্ধ করে একটি সুশৃঙ্খল কর্মপরিবেশ সম্পন্ন পিডিবিএফ প্রতিষ্ঠা করেছেন। দীর্ঘদিন বিভিন্ন অনিয়ম, নৈরাজ্য ও স্বার্থান্বেষী মহলের আধিপত্যের কারণে প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী পদে নিয়োগ বন্ধ ছিল। প্রতিষ্ঠানে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তে বিগত ২০ বছর উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা (গ্রেড-৯) পদে সরাসরি কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির উচ্চতর পদে মেধাশূন্যতা ও জনবল ঘাটতির চরম সংকট তৈরি হয়। বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনবল সংকটে ধুকে ধুকে ধ্বংসের দিকে ধাবমান এ প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করেছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর পিডিবিএফ-এ ১,৬৬৫ জন নতুন জনবল নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে, যা শুধু এই প্রতিষ্ঠান নয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ এমনকি অপরাপর অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও সংখ্যার দিক থেকে উল্লেখযোগ্য। শুধু সংখ্যার দিক থেকে নয়, স্বচ্ছতা ও বিশুদ্ধতার মানদণ্ডে এই নিয়োগ একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো ক্ষেত্রে গবৎরঃড়পৎধপু-এর সাথে আপোশ করা হয়নি, নিয়োগের প্রতিটি কাজ অত্যন্ত জবষরমরড়ঁংষু সম্পন্ন করা হয়েছে। অথচ এ কাজটি খুব সহজ ছিল না। বিগত দিনের নৈরাজ্য, অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্যের ধারাবিহিকতা অব্যাহত রাখার অপচেষ্টা হিসেবে প্রতিষ্ঠানের বিরোধী চক্রান্তকারীরা এ নিয়োগ বন্ধের জন্য চারটি মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করে। ঘরে-বাইরে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মহান আল্লাহর কৃপায় আর সবার সহযোগিতায় এই দুঃসাধ্য কাজটির সফলভাবে পরিসমাপ্তি ঘটে। এই নিয়োগের স্বচ্ছতা ও বিশুদ্ধতার মানদণ্ড সরকারের বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে, যা সরকার ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত।
পিডিবিএফ আইনে সব প্রকার আয়কর অব্যাহতির বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আইনে এ বিষয়টির উল্লেখ না থাকায় পিডিবিএফ কার্যত সে সুবিধা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত ছিলো। বিভিন্ন সরকারি অডিট আপত্তিতে পিডিবিএফ আয়কর সংক্রান্ত কয়েকশত কোটি টাকার আপত্তি উত্থাপিত হয়, যা অমীমাংসিত অবস্থায় ঝুলে ছিল। এছাড়া, বিআরটিএ-এর সরকারি তালিকায় পিডিবিএফ-এর নাম না থাকায় পিডিবিএফ-এর যানবাহন পুলের গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রেও চরম জটিলতা বিরাজ করছিল। বৰ্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্তৃক এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করায় এনবিআর আইন সংশোধন হয়েছে। ফলে পিডিবিএফ-এর আয়কর সংক্রান্ত কয়েকশত কোটি টাকার অডিট আপত্তি ও যানবাহন পুলের গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের জটিলতার নিরসন হবে। বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ফলে আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকায় এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় হতে পিডিবিএফ-এর অনুকূলে এক বিঘা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়াও, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইতোমধ্যে পিডিবিএফ আইন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং প্রবিধানমালা সংশোধন ও সহকর্মীদের জন্য বহু প্রত্যাশিত পেনশন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান, যার মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানসহ এর কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.