Daily Dhaka Press

ইমান মাজারি ও হাদি চাত্তার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ ডা. মাহরাং বালুচের

বালোচ ইয়াকজেহতি কমিটি (BYC)-এর আটক নেত্রী ডা. মাহরাং বালুচ মানবাধিকার আইনজীবী ইমান জয়নাব মাজারি-হাজির ও হাদি আলী চাট্টার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রের ‘দমনমূলক কৌশল’ এবং ‘ভিন্নমত দমনে উপনিবেশিক শাসনামলের আইন ব্যবহারেরই প্রতিফলন।’

সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ডা. বালুচ বলেন, ইমান মাজারি ও হাদি চাট্টার বছরের পর বছর ধরে মানবাধিকার রক্ষায় অগ্রভাগে থেকে কাজ করেছেন—প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বরকে সামনে এনেছেন এবং অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, তাদের এই সাহস ‘নীরবতার মাধ্যমে উপেক্ষিত হওয়া উচিত নয়।’

তিনি লেখেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—যা একটি মৌলিক মানবাধিকার—অস্বীকার করা হচ্ছে।” ডা. বালুচের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা নির্যাতনের অভিযোগগুলোর সুরাহা করার বদলে কর্তৃপক্ষ “নির্বাচিতভাবে উপনিবেশিক আমলের আইন ব্যবহার করে কর্মীদের কণ্ঠ রোধ করছে।”

ইমান মাজারি ও হাদি চাট্টার বিরুদ্ধে করা মামলাকে তিনি “সাজানো” আখ্যা দেন। তাঁর ভাষায়, এই মামলা দেখিয়ে দেয়—পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা কত সহজে মৌলিক অধিকার রক্ষায় নিয়োজিতদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি বলেন, এই দুই আইনজীবী ধারাবাহিকভাবে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিষয়গুলো সামনে এনেছেন।

ডা. বালুচ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান—সব অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে এবং ন্যায্য বিচার ও যথাযথ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে। তিনি বলেন, “আইনকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ হতেই হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।”

এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডারস (FLD)-ও ইমান মাজারি ও হাদি চাট্টার বিরুদ্ধে চলমান প্রক্রিয়াকে “বিচারিক হয়রানি” হিসেবে নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সমালোচনামূলক পোস্টের জেরে দুই আইনজীবী দীর্ঘদিন ধরে “আইনি প্রতিশোধের ধারাবাহিক অভিযানের” শিকার। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট (পেকা) আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে।

FLD আরও জানায়, মামলায় “গুরুতর প্রক্রিয়াগত অনিয়ম” রয়েছে—নিজেদের পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়া, আদালত-নিযুক্ত আইনজীবীদের ওপর চাপ প্রয়োগ, তড়িঘড়ি শুনানি এবং আদালতের সমন মানার পরও হাদি চাট্টাকে গ্রেপ্তার করা।

সংস্থাটির মতে, এই কার্যক্রমে “বিচারপ্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন” উঠেছে এবং দুই আইনজীবীর দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

FLD বলছে, এই অভিযোগগুলো পাকিস্তানে মানবাধিকার রক্ষকদের কাজ ব্যাহত করার একটি বৃহত্তর প্রতিশোধমূলক ধারার অংশ—বিশেষ করে যারা গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ইচ্ছামতো আটক বিষয়ে কাজ করেন।

সংস্থাটি কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে “ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার”, দুই মানবাধিকার রক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভয়ভীতি ছাড়াই তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

Exit mobile version