
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু আজ বৃহস্পতিবার। এক্ষেত্রে ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী শুরু করবেন প্রচার যুদ্ধ তবে মানতে হবে ইসির আরচণ বিধি।
ইসি জানায়, এবার নির্বাচনে স্বতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মিলে মোট প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ১ হাজার ৯৭৩ জন। আদালত থেকে কিছু প্রার্থী বৈধতা পেলে এ সংখ্যা কিছু টা বৃদ্ধি পাবে। এসব নির্বাচনি প্রচারণায় এসকল প্রার্থীকে মেনে চলতে হবে ইসির জারি করা আচরণ বিধিমালা।যদি কোনো প্রার্থী আচরণ বিধি ভঙ্গ করে তাহলে তার প্রার্থীতা বাতিলসহ বিভিন্ন রকম শাস্তি প্রদান করতে পারবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আচরণ বিধিমালা থেকে জানা যায়, ভোটের প্রচারে ড্রোন, পোস্টার ব্যবহার, বিদেশে প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০ টির বেশি বিলবোর্ডে মানা, একমঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা ও আচরণবিধি মানতে প্রার্থী ও দলের অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। সোশাল মিডিয়ায় ভোটের প্রচারে কড়াকড়ি আরোপ, অসৎ উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহারে মানা, পোস্টার ও ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ কি করা যাবে, কি করা যাবে না তা তুলে ধরা হয়েছে এ বিধিমালায়। আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ জরিমানা এবং দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে ইসির।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ জারি হয় গত বছরের ৪ নভেম্বর । এরপর আরপিও’র আলোকে গত বছরের ১১ নভেম্বর আচরণবিধি গেজেট আকারে জারি করেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার।
নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য জেসমিন টুলী বলেন,প্রতীক বরাদ্দ হয়ে গেছে। এই পর্যায়ে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের প্রতিটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ এবং আচরণবিধিকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি যদি ঠিকভাবে মানা না হয়, তাহলে পুরো নির্বাচন নিয়ন্ত্রণে রাখা নির্বাচন কমিশনের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠবে।
জেসমিন তুলী আরও বলেন, এবার বিপুল সংখ্যক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ অবস্থায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন শুরুর মুহূর্ত থেকে শেষ পর্যন্ত আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।আচরণবিধি শুধু কাগজে থাকলে হবে না, রাজনৈতিক দলগুলোকে তা বাস্তবে মেনে চলতে হবে। কেন্দ্রভিত্তিক ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও নির্বাচনী মালামাল ব্যবস্থাপনার মতো প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি কমিশনকে প্রার্থীদের প্রতিটি আচরণ নিবিড়ভাবে মনিটর করতে হবে, তাহলেই নির্বাচন সুষ্ঠু রাখা সম্ভব হবে।
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.