Site icon Daily Dhaka Press

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় : এবার পরিচ্ছন্ন লেকও টানতে পারেনি পরিযায়ী পাখি

আবু মেহরাজ শোয়েব, জাবি : শীতের শুরুতেই প্রতিবছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লেকগুলো লাল শাপলা আর হাজারো পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠত। শিক্ষার্থী, পাখিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীদের জন্য এটি ছিল এক অনন্য দৃশ্য। কিন্তু গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে অতিথি পাখির আগমন। তবে এবারে পাখিদের বরণ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসুর উদ্যোগে লেকগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করলেও দেখা মেলেনি কাঙ্ক্ষিত সেই অতিথিদের।

ডিসেম্বরের শেষ দিকে সাধারণত পরিযায়ী পাখির সর্বোচ্চ উপস্থিতি থাকার কথা থাকলেও ক্যাম্পাসের বেশিরভাগ জলাশয়ই প্রায় নীরব ছিল। যেখানে একসময় ৫ থেকে ৭ হাজার পাখির সমাগম হতো, সেখানে এ বছর ছিল অতি সামান্য।

এদিকে সংশ্লিষ্টদের দাবি, কেবল পরিষ্কার লেক নয়, পাখির জন্য প্রয়োজন নিরাপদ ও শান্ত পরিবেশ, যা বর্তমানে জাবিতে অনুপস্থিত। এছাড়াও অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও বহুতল ভবন নির্মাণ, মানুষের বিচরণ, উচ্চ শব্দ ও কোলাহল পাখিদের জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিযায়ী পাখিরা অত্যন্ত সংবেদনশীল। পরিষ্কার লেক তাদের জন্য কেবল একটি আধার মাত্র, কিন্তু সেই আধারে শান্তি ও নিরাপত্তার অভাব থাকলে তারা সেখানে স্থায়ী হয় না। অবিলম্বে ক্যাম্পাসে শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং লোকসমাগম সীমিত না করলে জাহাঙ্গীরনগর তার ‘পাখির স্বর্গরাজ্য’ খেতাব চিরতরে হারিয়ে ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিব রায়হান বলেন, আমরা সাধারণত মনে করি লেকের কচুরিপানাও জলজ উদ্ভিদ পরিষ্কার করলেই পাখিরা চলে আসবে, কিন্তু বিষয়টি সঠিক নয়। পরিযায়ী পাখিরা কেবল জলাশয় দেখে আসে না, তারা আসে নিরাপদ আবাসস্থলের খোঁজে। লেক পরিষ্কার হলেও তার চারপাশে চলছে বহুতল ভবন, লোকসমাগম ও শব্দদূষণ এ বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাকসুর পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মো. সাফায়েত মীর বলেন,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বেশ কয়েক বছর ধরেই পাখি আসছে না। কদাচিৎ আসলেও অল্প কিছুদিন থেকে তারপর চলে যায়। আমরা জাকসুর পক্ষ থেকে প্রশাসনকে বারবার অবগত করার পর মনপুরা সংলগ্ন লেক পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা হয় এবং সেখানে এ বছর যথেষ্ট পাখি এসেছে। পাখির বিচরণে যেন ব্যঘাত সৃষ্টি না হয় সেজন্য আমরা জাকসুর পক্ষ থেকে প্রশাসনের সহায়তায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড লাগিয়েছি।কিন্তু দুঃখের বিষয়, মনপুরা সংলগ্ন লেকে অতিরিক্ত জনসমাগমের কারনে ওখানে পরিযায়ী পাখি বেশী দিন অবস্থান করেনি।উঁচু ভবন, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে লেইক খনন এবং সংস্কার না করা, অতিরিক্ত জনসমাগম এবং সাউন্ড পলিউশনের কারনে বিগত কয়েক বছর ধরেই পাখি না আসার ধারাবাহিক অপ্রত্যাশিত ফলাফল এই বছরও পাখি না আসা।তবে আমরা জাকসুর পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাখি বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান বলেন,“এটি একটি বড় পরিবেশগত অবক্ষয়ের প্রতিফলন। পরিযায়ী পাখির হারিয়ে যাওয়া আসলে পুরো বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়ার একটি দৃশ্যমান লক্ষণ।”

হারিয়ে যাচ্ছে পরিচিত প্রজাতি সংখ্যা কমার পাশাপাশি প্রজাতিগত বৈচিত্র্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Exit mobile version