ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সামনে রেখে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ তাদের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার তুলে ধরা হয়।
ইশতেহারে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারের কথা বলা হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, জাতীয় নেতাদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি সংস্কার এবং সংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
ঘোষিত ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণ, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সম্পদের সুষম বণ্টন। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন মন্ত্রণালয় গঠন করে চাঁদাবাজি, ঘুষ, অর্থপাচার ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে ইশতেহারে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তিতে জাতীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার, সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং তিস্তা বহুমুখী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবাখাতকে জনবান্ধব করা, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও ওয়াসা খাতে অনিয়ম বন্ধ, ভূমিহীনদের মধ্যে খাস জমি বণ্টন এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের অঙ্গীকার রয়েছে ইশতেহারে।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনএফের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এই ২১ দফা ইশতেহার জনগণের মৌলিক অধিকার, জাতীয় নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা। এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”

