রায়হান মুহাম্মদ শামীম: অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন, আর ঠিক তার মাঝেই শুরু হয়ে গেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬। ভোটের আগের রাতজুড়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, নির্বাচনী অনিয়মের শঙ্কা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ছিলো উত্তেজনা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজধানী থেকে জেলা শহর ও গ্রাম সবখানেই টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রার্থীদের শেষ মুহূর্তের প্রচারণা—সব মিলিয়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী আবহ।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিক নির্দেশনা হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা। ভোটার উপস্থিতি কেমন হবে, বিরোধী দলগুলোর অবস্থান কি, আর আন্তর্জাতিক মহল কিভাবে দেখছে এই নির্বাচন—এসব প্রশ্ন এখন সবার মনে।
চব্বিশের রক্তঝরা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নতুন বাংলাদেশে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। দীর্ঘ দেড় দশকের রুদ্ধশ্বাস পরিবেশ কাটিয়ে কথা বলার স্বাধীনতা আর ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের স্বপ্নে বিভোর এখন পুরো দেশ। যে রাজপথে ঝরেছে বিপ্লবীদের রক্ত, সেই রাজপথে এখন মুক্তকণ্ঠের নির্বাচনি আমেজ। আজকের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ কেবল ভোটই নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মের লড়াইয়ের ফসল—যেখানে মানুষ কোনো ভয় ছাড়াই নিজের পছন্দের নেতা বেছে নেওয়ার অধিকার ফিরে পাচ্ছে। ভয়হীন পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের এই নতুন চর্চা বাংলাদেশকে নিয়ে যাবে এক নতুন গণতান্ত্রিক দিগন্তের দিকে। তবে এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্ন, এক ঐতিহাসিক ‘গণভোট’।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তবর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দেড় বছরের মাথায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই নির্বাচন।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শেরপুর-৩ আসন বাদে সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কয়েকটি স্তরে ভোটের নিরাপত্তায় আছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ ৫৬ হাজার সদস্য।
বিগত নির্বাচনগুলোতে রাজপথে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি দেখা গেলেও এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় মাঠে প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী। যদিও সর্বমোট ৫০টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
বিএনপি এককভাবে ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়ে জয়ের ব্যাপারে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়েছে ১০টি দল।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যজোট বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশ ও তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ায় ভোটের সমীকরণে এসেছে নাটকীয় পরিবর্তন।
এবারের ভোটের সবচেয়ে বড় চমক ব্যালট বাক্সে দুটি ভিন্ন লড়াই। একদিকে সংসদ সদস্য নির্বাচন, অন্যদিকে সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে গণভোট। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা এবং নির্বাচনকালীন স্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভোটাররা তাদের রায় দেবেন।

