আনন্দলোক ডেস্ক : আজ রোববার মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতের কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। আশার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকরের ছোট বোন আশা ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস এবং আনন্দবাজারের তথ্য অনুসারে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে অসুস্থ বোধ করছিলেন আশা ভোঁসলে। এক পর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তারপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই রোববার দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা। ১৯৩৩ সালে সঙ্গিল জেলার (বর্তমান মহারাষ্ট্রে অবস্থিত) গৌড়ে এক সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা দীনানাথ মঙ্গেশকর ছিলেন মারাঠি ভাষী গোমন্থক মারাঠা সমাজের সদস্য এবং মারাঠি সঙ্গীত মঞ্চের একজন অভিনেতা ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী। ভারতীয় সঙ্গীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি। কয়েক দশক জুড়ে তাঁর কণ্ঠে অসংখ্য জনপ্রিয় গান শ্রোতাদের মন জয় করেছে।
আশা ভোঁসলে হাসপাতলে ভর্তি হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। নিজের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা এক বার্তায় মোদি বলেছিলেন, “আশা ভোসলেজি হাসপাতালে ভর্তি শুনে গভীর ভাবে চিন্তিত। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিবার মঙ্গেশকর পরিবারের সদস্য আশা ভোসলের বোন লতা মঙ্গেশকর ভারতের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী। আশা ভোসলের রেকর্ডকৃত গানের তালিকায় রয়েছে চলচ্চিত্রের সঙ্গীত,পপ,গজল,ভজন,ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত,লোকসঙ্গীত, কাওয়ালি, ও রবীন্দ্রসঙ্গীত। হিন্দি ভাষা ছাড়াও তিনি ২০টি ভারতীয় ও বিদেশি ভাষায় গান গেয়েছেন। ২০১৩ সালে মাই চলচ্চিত্র তিনি অভিনয়ের নাম লেখান এবং তার অভিনয় সমাদৃত হয়। ২০০৬ সালে ভোসলে বলেন দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ১২০০০ এরও বেশি গান গেয়েছেন। বিভিন্ন উৎসেও এই সংখ্যার উল্লেখ পাওয়া যায়। ২০১১ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাকে সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ডকারী হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.