নিজস্ব প্রতিবেদক : হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্রুড অয়েল আমদানি ব্যাহত হলেও দেশে আগামী দুই মাসে দেশে জ্বালানির কোনো সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ক্রুড অয়েলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় ইস্টার্ন রিফাইনারির ২টি ইউনিটের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত রাখার লক্ষ্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “আমাদের ইনশআল্লাহ আগামী দুই মাসে কোনো জ্বালানি সংকট নাই।”
বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক বার্তায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি মূলত সৌদি আরবের সৌদি আরামকো থেকে এরাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল (এএলসি) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল ওয়েল কোম্পানি (এডিএনওসি) থেকে মারবান ক্রুড অয়েল আমদানিপূর্বক পরিশোধন করে দেশের মোট বাৎসরিক জ্বালানি তেলের চাহিদার ৫ ভাগের ১ ভাগ সরবরাহ করে। যার পরিমাণ বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন। বছরের শুরুতে নেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি মাসে সাধারণত ১ থেকে ২টি কার্গো আমদানিপূর্বক ইআরএল-এর উৎপাদন অব্যাহত রাখে। দেশের চাহিদা অনুযায়ী অবশিষ্ট জ্বালানি তেল পরিশোধিত আকারে আমদানি করা হয়।
দেশের মূল জ্বালানি তেল ডিজেলের মাত্র ১৫ শতাংশ এবং পেট্রোলের ১১ শতাংশ ইআরএল থেকে পাওয়া যায়। বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত তেল আমদানি করে একদিকে ইআরএল থেকে প্রাপ্ত তেলের ঘাটতি যথাযথভাবে পূরণ করছে এবং অন্যদিকে সীমিত পর্যায়ে ইআরএল-এর উৎপাদনও অব্যাহত রেখেছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় মার্চ (২ লাখ টন) এবং এপ্রিলে (১ লাখ টন) নির্ধারিত ৩ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির যে সিডিউল, সে অনুযায়ী ক্রুড অয়েল আনা সম্ভব হয়নি।
অবৈধ মজুদদারি বন্ধে সরকার কী করছে, সেই তথ্যও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোবাইল কোর্টের ৯১৬টি অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় ৩ হাজার ৫১০টি মামলা হয়েছে, ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তেল মজুদের হিসাবও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, দেশে এখন ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন, ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন অকটেন, ১৮ হাজার ২১ মেট্রিক টন পেট্রোল, ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ১৮ হাজার ২২৩ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুদ আছে। দেশের একমাত্র রিফাইনারি ইআরএল জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ক্রুড অয়েল স্বল্পতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হচ্ছে বিধায় লো-ফিডে ইআরএল চালু থাকলেও এর কোনো বিরূপ প্রভাব সরবরাহ চ্যানেলে পড়বে না এবং এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.