
দুর্নীতি দমন বিধিমালার বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে বিসিবি। তাদের মধ্যে আছেন ক্রিকেটার অমিত মজুমদারও। বিপিএলের দ্বাদশ আসরে (২০২৫-২৬) দুর্নীতিমূলক আচরণ, জুয়া কার্যক্রম, দুর্নীতি দমন তদন্তে অসহযোগিতা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিসিবি ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তদন্তের ভিত্তিতে এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত বাকি তিনজন হলেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের লজিস্টিকস ম্যানেজার লাবলুর রহমান, সিলেট টাইটান্সের ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিক ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস দলের সহ-সত্বাধিকারী তৌহিদুল হক তৌহিদ।
বিসিবি থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ঘিরে আবারও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তদন্তে জুয়া, দুর্নীতির প্রস্তাব, তদন্তে অসহযোগিতা এবং তথ্য গোপনের মতো গুরুতর অভিযোগে কয়েকজন ক্রিকেটার, টিম কর্মকর্তা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত সবাইক সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং অভিযোগের নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়েছে তাদেরকে।
অমিত মজুমদার কখনও বিপিএলে কোনো ম্যাচ খেলেননি। ২০০৮ ও ২০১০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেললেও জাতীয় দলে খেলার সুযোগ কখনও পাননি। ৩৫ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান খেলেছেন ৫৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, ৯৯টি লিস্ট 'এ' ম্যাচ ও ৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন তিনি রূপগঞ্জ টাইগার্সের হয়ে। নিষিদ্ধ হওয়ার দিনও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে খেলেছেন তিনি।
আচরণবিধির ২.২.১ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে অমিতের বিরুদ্ধে যেখানে বলা হয়েছে "ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, আচরণ বা অন্য কোনো দিকের ওপর বাজি ধরা, গ্রহণ করা, স্থাপন করা বা অন্য কোনোভাবে বাজিতে প্রবেশ করা।"
লাবলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দুটি। এর একটি, "সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক আচরণের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা পরিচালিত তদন্তে জোরাল কারণ ছাড়া সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়া বা অস্বীকার করা, এর মধ্যে ৪.৩ অনুচ্ছেদের অধীনে জারি করা নোটিশ মেনে চলতে ব্যর্থতাও অন্তর্ভুক্ত।" এটির সঙ্গে আছে, "সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক আচরণের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব করা, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ ও তথ্য গোপন করা, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করা।" লাবলুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দুটি তোলা হয়েছে তৌহিদুলের বিরুদ্ধেও। অমিতের বিরুদ্ধে অভিযোগটিতেই অভিযুক্ত হয়েছেন রেজওয়ান।
বিসিবির তদন্তে উঠে এসেছে, বিপিএলের নবম, দশম ও একাদশ আসরজুড়ে একাধিক সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন সামিনুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জুয়া-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, ক্রিকেটার ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, দেশি-বিদেশি বেটিং ও দুর্নীতি চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ম্যাচে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.