ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক: প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে টেস্টে হারালো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ঘরের মাঠে টেস্টে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবুয়েকে হারালেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে কখনো জয় পায়নি। পাকিস্তানের মাটিতে ২০২৪ সালে টেস্ট জিতে আসলেও এবারই প্রথম পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে টেস্টে হারালো বাংলাদেশ। শেষ বিকেলে নাহিদ রানার তাণ্ডবে কুপোকাত হলো পাকিস্তান।
২০২৪ সালে পাকিস্তানে গিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে এলেও দেশের মাঠে তাদের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় এটিই। সূত্রমতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের হ্যাট্রিক জয়।
২৬৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই পাকিস্তানি ওপেনার ইমাম-উল হককে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। তার করা বলে কটবিহাইন্ড হন ইমাম। আউট হওয়ার আগে করেন ৫ বলে ২ রান। আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস করেন ৩৩ বলে ১৫ রান। আর দলনেতা নেতা শান মাসুমের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান।
৬৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়েছিল পাকিস্তান। চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে দলকে চাপমুক্ত করেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা। এই জুটিতে আসে ৫১ রান। ফিফটির দেখা পাওয়া ফজলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ১১৩ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৬৬ রান করেন ফজল। পরের ওভারেই সালমান আগাকে পরাস্থ করেন তাসকিন আহমেদ। সালমান করেন ৩৯ বলে ২৬ রান।
৫ উইকেট হারিয়ে আরও একবার চাপে পড়ে সফরকারীরা। ষষ্ঠ উইকেটে দলকে শঙ্কামুক্ত করার চেষ্টা চালান উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিল। কিন্তু তাদের ক্রিজে থিতু দেননি টাইগার পেসার নাহিদ রানা। নিজের করা টানা দুই ওভারে শাকিল ও রিজওয়ানকে সাজঘরে পাঠান তিনি। এই দুই ব্যাটারই করেন ১৫ করে রান।
এরপর ১ রান করে হাসান আলিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম।
এর আগে, প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৭৯ রানে এগিয়ে ছিল টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮ ও মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। পঞ্চম দিন শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন দাস ১১, মেহেদি হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩, তাসকিন আহমেদ ১১ রানে আউট হন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। এ ছাড়া আগের দিন মাহমুদুল হাসান জয় ৫, সাদমান ইসলাম ১০ ও মুমিনুল হক ৫৬ রানে আউট হন।
শেষ সেশনে পাকিস্তানের জিততে দরকার ছিল ১৫২ রান, বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। এই লড়াইয়ে বাংলাদেশই এগিয়ে গেলো। শেষ সেশনে ৪ উইকেট নেন নাহিদ রানা। বাকি তিনটি ভাগাভাগি করে নেন তাইজুল ও তাসকিন আহমেদ।
এরপর ১৫৪ রানের মাথায় ৮ম উইকেট হিসেবে হাসান আলিকে এলবিডব্লিউ করে পথটা আরও সহজ করে দেন তাইজুল ইসলাম। পরের দুই ব্যাটার শুধু বাংলাদেশের জয়ের অপেক্ষা বাড়িয়েছে। নবম ব্যাটার হিসেবে নোমান আলিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন নাহিদ রানা। সর্বশেষ শাহিন শাহ আফ্রিদিকে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪১৩
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৬
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৭০.৩ ওভারে ২৪০/৯ ডি. (আগের দিন ১৫২/৩) (শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন ১১, মিরাজ ২৪, তাইজুল ৩, তাসকিন ১১, ইবাদত ৪*; আফ্রিদি ১৬-২-৫৪-২, আব্বাস ১৪-৩-৩৫-১, হাসান ১৭.৩-২-৫২-৩, সালমান ৫-০-১৮-০, হাসান ১৮-১-৭৬-৩)।
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৬৮ রান) ৫২.৫ ওভারে ১৬৩ (আজান ১৫, ইমাম ২, ফাজাল ৬৬, মাসুদ ২, সালমান ২৬, শাকিল ১৫, রিজওয়ান ১৫, নোমান ৪, হাসান ১, আফ্রিদি ০, আব্বাস *; তাসকিন ১০-১-৪০-২, মিরাজ ১৭-৩-৪৭-১, নাহিদ ৯.৫-২-৪০-৫, ইবাদত ২-০-৯-০, তাইজুল ১৪-৩-২২-২)
ফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী।
সিরিজ: বাংলাদেশ দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচ: নাজমুল হোসেন শান্ত।

