বিশ্বজুড়ে ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) স্থানীয় সময় ওয়াশিংটন থেকে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে বুধবার (১৩ মে) বেইজিং পৌঁছান তিনি। চীন সফরে যাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরানে তার ব্যয়বহুল ও খুবই অজনপ্রিয় যুদ্ধের সমাধানে বেইজিংয়ের সহায়তা চাইবেন বলে অনেকেই ধারণা করছেন। যদিও এ সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা তার নেই বললেই চলে।
আগামী ১৫ মে পর্যন্ত ট্রাম্প চীনে অবস্থান করবেন এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের এই সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্পের বেইজিং সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ে দুই নেতার বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তিনি আরও বলেন, এটি ভুলভাবে সামলানো হলে দুই দেশ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়াতে পারে, এমনকি সরাসরি সংঘাতেও পৌঁছাতে পারে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু ভুলভাবে পরিচালনা করা হলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি।
স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে বরাবর দাবি করে আসছে চীন। এটা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। কেননা, তাইওয়ানের অস্ত্রের অন্যতম জোগানদাতা ওয়াশিংটন।
আজ বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সি চিন পিং বলেন, ‘চীন ও মার্কিন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে তাইওয়ান প্রশ্নটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।’
‘যদি ঠিকঠাক সামলানো না যায়, তাহলে দুদেশের মধ্যে সংঘাত হতে পারে। এটা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে’—বলেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

