নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আদায়কৃত অর্থ রামিসার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
রায়ে আরও বলা হয়, নির্ধারিত অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
রায় ঘোষণার আগে সকালেই দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার এবং সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই নিহতের বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন ২০ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। পরে তদন্ত শেষে ২৪ মে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। একই দিনে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
ঈদের ছুটির পর ১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। পরদিন নিহত শিশুর বাবা-মা, বোনসহ মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আদালত ৭ জুন রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। মামলাটি মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এটি সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত নিষ্পত্তিকৃত আলোচিত মামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

