Site icon Daily Dhaka Press

চাকরির বাজারে অচল! এআই বিপ্লবের মুখে ১২ হাজার ডিগ্রি বিলুপ্ত করল চীন

শিয়ামেন ইউনিভার্সিটি। ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ডেইলি ঢাকা প্রেস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য উত্থানের ধাক্কা এবার সরাসরি লাগল উচ্চশিক্ষায়। যুগের সাথে তাল মেলাতে না পেরে এবং চাকরির বাজারে কার্যকারিতা হারানোয় নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় ১২ হাজার প্রথাগত ডিগ্রি বাতিল করে দিয়েছে চীন। এর মধ্যে বেশিরভাগই কলা, মানবিক ও ভাষাবিষয়ক কোর্স। প্রথাগত এসব কোর্সের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়ে বেইজিং এখন সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকছে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক শিক্ষার দিকে।

চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান চাকরির বাজারের গতিপ্রকৃতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বহু পুরোনো ও সনাতনী কোর্সগুলো এখন আর নিয়োগকর্তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। ফলে প্রতি বছর এসব বিষয় থেকে পাস করা হাজার হাজার শিক্ষার্থী বেকারত্বের ঝুঁকিতে পড়ছেন। এই সংকট থেকে উত্তোরণ পেতেই পুরোনো কোর্সগুলো বন্ধ করে এআই, ডেটা সায়েন্স, রোবোটিকস ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো হাই-টেক বিষয়গুলোকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারকদের কাছে কলা ও মানবিক শাখার অনেক ডিগ্রি এখন কেবলই কাগজের টুকরো, যার বাস্তব কোনো উপযোগিতা নেই। অথচ এসব বিভাগে প্রতি বছর অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছিল। বিপরীতে, ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রায়োগিক রূপের মতো নতুন নতুন বিষয়গুলো চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্যের সাথে অনেক বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরিসংখ্যান বলছে, বিগত মাত্র পাঁচ বছরেই চীনে ১০ হাজারের বেশি নতুন ডিগ্রি চালু করা হয়েছে, যার সিংহভাগই প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট।

খোদ শিক্ষার্থীরাও সরকারের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, অনুবাদ, গ্রাফিক ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং কিংবা সাধারণ ডেটা অ্যানালাইসিসের মতো কাজগুলো এখন চোখের পলকে করে দিচ্ছে চ্যাটজিপিটি বা মিডজার্নির মতো এআই টুলগুলো। ফলে এসব খাতে মানুষের কর্মসংস্থান নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। তাই পুরোনো পড়াশোনায় সময় নষ্ট না করে শুরু থেকেই প্রযুক্তির হাল ধরা বুদ্ধিমানের কাজ।

শিক্ষা খাতের এই আমূল পরিবর্তন অবশ্য কেবল চীনের মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও স্পেনের মতো উন্নত দেশগুলোও তাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে এআই-বান্ধব করতে নানামুখী সংস্কার শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনের চাকরির বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করবে প্রযুক্তি। আর সেই ভবিষ্যতের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তোলাই এখন বিশ্বনেতাদের মূল লক্ষ্য।

Exit mobile version