ডেইলি ঢাকা প্রেস/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ৩০ জুন ২০২৬

➤ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপির তকমা গায়ে মেখেও নির্বাচন করে পার পেয়ে যাবেন বলে ভেবেছিলেন বিএনপি নেতা ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তার সেই আশায় চূড়ান্ত পেরেক ঠোকা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল। তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না, এমনকি তার নির্বাচনী ফলাফলও আর প্রকাশ করা যাবে না।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকীর করা আপিল মঞ্জুর হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হলো, আইনি মারপ্যাঁচে সাময়িক সুবিধা পেলেও শেষমেশ ঋণখেলাপিদের জন্য সংসদের দরজা বন্ধ-ই থাকছে। চট্টগ্রাম-৪ আসনে উপ-নির্বাচন কবে হচ্ছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা মেলেনি।
খুব সোজা এবং রূঢ় সত্যটা হলো— আসলাম চৌধুরীর সংসদে ঢোকার সুযোগ এখন শূন্যের কোঠায়। আপিল বিভাগের এই চূড়ান্ত রায়ের পর তার সামনে আইনি পথ বলতে একটিই খোলা আছে—রিভিউ পিটিশন দায়ের করা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, আপিল বিভাগের দেওয়া চূড়ান্ত রায় রিভিউ করে পাল্টে যাওয়ার নজির অতি নগণ্য। কারণ রিভিউতে নতুন কোনো প্রমাণ হাজির করার সুযোগ নেই, শুধু রায়ের মধ্যে কোনো দৃশ্যমান আইনি ভুল থাকলে তবেই তা সংশোধন করা হয়।
যেহেতু তিনি তফসিল ঘোষণার সময় খেলাপি ছিলেন, তাই রেট্রোস্পেক্টিভ বা ভূতাপেক্ষভাবে সেই দাগ মোছার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং, আসলাম চৌধুরীর এই সংসদে যাওয়ার স্বপ্ন এখানেই শেষ। নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এখন নিয়ম অনুযায়ী, এই আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত আরও তিন আসনে
আসলাম চৌধুরীর চট্টগ্রাম-৪ আসনটি-ই একমাত্র নয়, আইনি ও সীমানা জটিলতায় দেশের মোট ৩০০ আসনের মধ্যে আরও কয়েকটি আসনের ভাগ্য এখনো ঝুলে আছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের তফসিল চূড়ান্ত করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
চট্টগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকীকে হারিয়ে জিতেছিলেন বিএনপির আসলাম চৌধুরী। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, নির্বাচনে জিতেও সংসদে ঢুকতে পারছেন না আসলাম চৌধুরী। আপিল বিভাগের রায়ে ঋণখেলাপি প্রমাণিত হওয়ায় তার শপথ বাতিল হয়ে গেল। এখন আসনটিতে পুনর্নির্বাচন অবশ্যম্ভাবী।
এদিকে, চট্টগ্রাম-২ আসনে আইনি জটিলতার কারণে আদালতের নির্দেশে ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে। মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। বিএনপি নেতা সারোয়ার আলমগীর জিতেও সংসদে ঢোকার পথ যথেষ্ট পিচ্ছিল হয়ে আছে।
অপরদিকে, পাবনা-১ আসনটিতে বেড়া ও সুজানগর উপজেলার সীমানা জটিলতার জেরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশে গত ৯ জানুয়ারি নির্বাচন স্থগিত করে ইসি। একই কারণে, পাবনা-২ আসনেও ভোটগ্রহণ হয়নি। আদালতের মাধ্যমে সীমানা জটিলতার নিরসন হলেই সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালতের সর্বশেষ রায়, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বড় বার্তা। ঋণখেলাপি হয়েও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে লড়ার যে ট্রেন্ড চালু হয়েছিল, আসলাম চৌধুরীর এই পরিণতি তা রুখে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ‘মাইলফলক’ হয়ে থাকবে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন কত দ্রুত এই বাতিল ও স্থগিত হওয়া আসনগুলোতে নতুন করে নির্বাচনের ছক তৈরি করতে পারে।
ডেইলি ঢাকা প্রেস/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.