Site icon Daily Dhaka Press

রেকর্ড রেমিট্যান্সের আড়ালে জনশক্তি রপ্তানির সংকট

◉➤ বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম শীর্ষ তিনটি গন্তব্য—মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরে নতুন কর্মীদের জন্য প্রায় বন্ধ। কূটনৈতিক তৎপরতা এবং নানামুখী প্রতিশ্রুতির পরও এই অচলাবস্থা কাটছে না। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাজার সংকুচিত হওয়ার পরও সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারার আড়ালে জনশক্তি রপ্তানি খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং একক দেশ হিসেবে সৌদি আরবের ওপর অতি-নির্ভরতা ভবিষ্যতের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ১১ লাখ ৩০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন। কিন্তু এর মধ্যে বিশাল একটি অংশ, অর্থাৎ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৭ লাখ ৫২ হাজার) গেছেন কেবল সৌদি আরবে।

উদ্বেগের মূল জায়গাটি হলো কর্মীদের দক্ষতা। ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে ৭৭ শতাংশেরও বেশি ছিলেন অদক্ষ বা আধা-দক্ষ। মাত্র ২.৯৪ শতাংশ ছিলেন পেশাদার (প্রফেশনাল) পর্যায়ের। বৈশ্বিক বাজারে দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা বাড়লেও বাংলাদেশ এখনো সস্তা শ্রম রপ্তানির বৃত্তেই আটকে আছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পেছনে মূল কারণগুলো হলো—রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট, আকাশচুম্বী অভিবাসন ব্যয় এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গ। সিন্ডিকেট ও নানা অনিয়মের অভিযোগে দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বাজারটি। তবে সম্প্রতি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে পুরোনো সিন্ডিকেট ভেঙে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে উভয় দেশ একমত হয়েছে। আগামী বছরের জুন নাগাদ দেশটি নতুন করে দক্ষ কর্মী নেওয়া শুরু করতে পারে।

গত ৩২ মাস ধরে ওমানে নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ। আকামা ও ভিসা ট্রান্সফারে কিছু শিথিলতা এলেও সাধারণ কর্মীদের প্রবেশ এখনো আটকে আছে। ভিসা জটিলতা এবং অভ্যন্তরীণ আইনি কড়াকড়িতে সাধারণ কর্মীদের জন্য বাজারটি এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি।

শ্রমবাজারের এই অচলাবস্থা ভাঙতে সরকার সম্প্রতি কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে বাজারটি পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। মালয়েশিয়ার পর সরকারের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যে। দীর্ঘ ৩২ মাসের অচলাবস্থা কাটাতে চলতি মাসের ১১ তারিখ ওমান সফরে যাচ্ছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, শুধু শ্রমবাজার খোলাই যথেষ্ট নয়, জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে নতুন শ্রমবাজার খোলার পাশাপাশি ভাষা, আইটি এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী তৈরির বিকল্প নেই। অন্যথায়, রেমিট্যান্সের বর্তমান প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

Exit mobile version