জাবি প্রতিনিধি :জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)৭ জুলাই, ২০২৬ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক হল ইউনিট ছাত্রদলের উদ্যোগে ৫৫ তম আবর্তনের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে ‘নবীন বরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) রাত ৯টায় হলের কমনরুমে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাধ্যক্ষ, শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক হলের সম্মানিত প্রাধ্যক্ষ :অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম প্রান্তিক।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম-আহবায়ক হুমায়ূন হাবিন হিরণ।এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক হল ছাত্রদলের সভাপতি সাঈফ বিন মাহবুব এবং সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহম্মেদ সিয়াম।ফিরোজ আহম্মেদ সিয়ামের
সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে হল ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে সাঈফ বিন মাহবুব। বলেন, “প্রিয় অনুজরা,বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু ক্লাসরুমের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি হলের সৃষ্টিধারা, রিডিং রুম ও সাংস্কৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলুন। আমরা চাই না কোনো ভয়ের পরিবেশে আপনারা বড় হন; আমরা চাই আপনারা মুক্ত বুদ্ধির চর্চা করুন, প্রশ্ন করতে শিখুন এবং মেধার বিকাশ ঘটান।আপনাদের এই ক্যাম্পাস জীবন যেন আনন্দের, গৌরবের ও শিক্ষণীয় হয়—সেই শুভকামনা রইল। যেকোনো সমস্যা বা পরামর্শের জন্য আমাদের সংগঠন এর দরজা আপনাদের জন্য সবসময় খোলা।সবাইকে আবারো ধন্যবাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উক্ত হলের সম্মানিত প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম প্রান্তিক বলেন, দীর্ঘ সময় পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে এসেছে। তিনি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ও মাওলানা ভাসানীর জীবন ও আদর্শ অধ্যয়নের পরামর্শ দেন।”
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে রাজনৈতিক সচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় নৈতিকতা ও দেশপ্রেম একজন শিক্ষার্থীকে দক্ষ নাগরিক, প্রশাসক ও নেতৃত্বে পরিণত হতে সহায়তা করে। পাশাপাশি নবীন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে তিনি সবাইকে শুভকামনা জানান এবং বক্তব্য শেষ করেন।”
এছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম-আহবায়ক হুমায়ূন হাবিন হিরণ বলেন : আমি ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ ব্যাচের, ৪০তম ব্যাচ। এই হলেই আমার শিক্ষাজীবন কেটেছে।
তো এই হলে আমি যখন আসি তখন ছাত্রলীগের একটা মিনি ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে পরিচিত ছিল এই হল। ছাত্রলীগ যে পরিমাণ আমাদেরকে মেন্টালি টর্চার, শারীরিক টর্চার করেছে আপনারা হয়তো পরবর্তীতে শুনেছেন বা পত্রপত্রিকায় দেখেছেন ছাত্রলীগের যে নির্মম নির্যাতনের শিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু আপনারা এখন যে পরিস্থিতিতে এখানে উপস্থিত আছেন সেই পরিবেশটা কিন্তু না। এই পরিবেশটার জন্যই আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরোধী আন্দোলনে নিজেদেরকে শরিক করেছিলাম রাজপথে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে, আন্দোলন সংগ্রাম করেছে এবং শেখ হাসিনাকে হটিয়েছে।
তো শিক্ষার্থীবৃন্দ, একটা জিনিস মনে রাখবেন যে, এই ক্যাম্পাসে আপনারা এসেছেন, আপনাদের পরে আরেকটা ব্যাচ আসবে। কিন্তু মেধা তালিকা উত্তীর্ণ হয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় আপনারা অবস্থান করছেন। এবং জ্ঞানের যে চর্চা, সেই চর্চা আপনাদের ভিতরে অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি আপনাদেরকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন দক্ষ মানবিক, দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে তৈরি হতে হবে। তাহলে আপনারা এ দেশের জন্য, এ সমাজের জন্য কিছু করতে পারবেন।
আমি আপনাদেরকে আরেকটি কথা বলতে চাই, সেটা হচ্ছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন একজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয় তখন তার জন্য এই ক্যাম্পাসটা উন্মুক্ত থাকে। সে যেকোনো কিছু করতে পারে। এখানে আপনি চাইলে সারাদিন খেলাধুলা করতে পারেন, সারাদিন লেখাপড়া করতে পারেন, সারাদিন শারীরিক চর্চা করতে পারেন। নাটক, সিনেমায়, থিয়েটার আছে—সবকিছুতে অংশ নিতে পারেন। ইউ হ্যাভ দ্য চয়েস। আপনি কোনটা গ্রহণ করবেন তা আপনার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।
আপনি রাজনীতিও করতে পারেন।
এই ক্যাম্পাস থেকে আমাদের জাতীয় দলের অধিনায়ক ক্রিকেটের মুশফিকুর রহিম—তিনি গেছেন। এই ক্যাম্পাসে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে হুমায়ুন ফরিদী—তিনি অবস্থান করেছেন। অনেক বড় বড় পলিটিশিয়ান এই ক্যাম্পাস থেকে তৈরি হয়েছে, আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। আপনাদেরকে ডিসাইড করতে হবে আপনারা কী করবেন।
তো আমি শুধু আরেকটি কথা বলবো আপনাদেরকে—যেকোনো অন্যায়, অবিচার এবং নিয়মশৃঙ্খলা পরিপন্থী যেকোনো কাজ যদি আপনাদের সামনে সংঘটিত হয়, আপনারা তার প্রতিবাদ করবেন। সবসময় সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে থাকবেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন একজন পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে যাতে সমাজে আপনার একটা ভূমিকা থাকে, আপনার একটা দায়বদ্ধতা থাকে যে এই সমাজ, এই দেশকে আপনি কিছু দিতে পারেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের লাল গোলাপ ও আন্তরিক শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়ার এই অনুষ্ঠানটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

