বিশ্বকাপের শেষ চার নিশ্চিত হওয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা এখন সেমিফাইনালের মহারণের দিকে। ৪৮ দল নিয়ে শুরু হওয়া এবারের আসর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখন শেষ চার দলে এসে দাঁড়িয়েছে। আর মাত্র দুটি ম্যাচের পরই নির্ধারিত হবে বিশ্ব ফুটবলের নতুন চ্যাম্পিয়ন।
প্রথম সেমিফাইনালে ১৫ জুলাই রাতে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল স্পেন ও ফ্রান্স। পরদিন একই সময়ে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। চার দলই অতীতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছে, তাই দুই সেমিফাইনালই হতে যাচ্ছে অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যের লড়াই।
বিশ্লেষকদের অনেকেই শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও স্পেনকে শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তবে নকআউট ফুটবলে অতীতের পরিসংখ্যান বা সম্ভাবনা সব সময় ফল নির্ধারণ করে না। এক ম্যাচেই বদলে যেতে পারে পুরো চিত্র।
তবুও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য আশার জায়গা রয়েছে ইতিহাসে। বিশ্বকাপে দলটি এখন পর্যন্ত যতবার সেমিফাইনাল খেলেছে, একবারও এই ধাপ থেকে বিদায় নেয়নি। ১৯৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে, ১৯৮৬ সালে বেলজিয়ামকে, ১৯৯০ সালে ইতালিকে টাইব্রেকারে, ২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে এবং ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল আলবিসেলেস্তেরা। অন্যদিকে ১৯৭৮ সালের আসরে ভিন্ন ফরম্যাটে সরাসরি ফাইনালে পৌঁছে শিরোপা জিতেছিল তারা।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবারই প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দুই দলের মধ্যকার এই লড়াই তাই নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।
অবশ্য পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে কোনো দলই এগিয়ে নয়। লিওনেল মেসি ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের অভিজ্ঞতার বিপরীতে ইংল্যান্ডের ভরসা হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম ও বুকায়ো সাকার মতো তারকারা। ১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড, আর আর্জেন্টিনা চাইবে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা ধরে রাখার পথে আরেকটি বাধা পেরোতে।
ফলে সেমিফাইনালের এই লড়াই শুধু দুই দলের নয়, বরং ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও বর্তমান ফর্মেরও এক আকর্ষণীয় সংঘর্ষ হতে যাচ্ছে।

