ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক : পৃথিবীটা যে গোল তা যেন পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন কর্মকান্ডে ফুটে ওঠে। পুরো বিশ্ব এখন মাতোয়ারা ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে। বিশেষ করে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর ফাইনাল দ্বৈরথ নিয়ে। যেখানে মুখোমুখি হবে বর্তমান ও সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দুই দল আর্জেন্টিনা ও স্পেন। দুটো দলেই তারকার সন্নিবেশ রয়েছে। তবে আর্জেন্টিনা দলের ফোকাস লাইট যেমন মেসির দিকে ঠিক তেমনি ম্পেনের ফোকাস লাইট রয়েসে লামিনে ইয়ামালের দিকে। এ দুই তারকা অচিরেই মুখোমুখি হবে। অবশ্য ক্লাব ফুটবলের সতীর্থও হয়েছেন দুজন। কিন্তু সম্প্রতি ফুটবল আলোচনা ছেড়ে আলোচনায় এসেছে তাদের প্রথম পরিচয়ের একটি ছবি ও দৃশ্যপট।
এ যেন এক চিত্রনাট্য। ছোটো ইয়ামাল বসে আছে বাথটবে। আর তাকে স্নান করাচ্ছেন মেসি। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরের সেই ঘটনা এখন ভাইরাল। অথচ তাঁরা এখন প্রতিপক্ষ। সেদিন দুই তারকার কেউ বুঝতে পারেননি, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে মুখোমুখি হতে চলেছেন। যে ছবিটি সামনে এসেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, ২০ বছরের লাজুক মেসি একটি নীল প্লাস্টিকের বাথটাবে শুয়ে থাকা পাঁচ মাসের ইয়ামালের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাকে কীভাবে কোলে নিতে হবে,সেটিও জানতেন না তিনি। অপরদিকে সেই শিশুও জানতেন না, যে তার হাত ধরে আছে সে একদিন ফুটবলের সংজ্ঞা বদলে দেবেন।
ভাইরাল ছবিগুলোতে দেখা যায়, বাথটাবে বসে আছেন ছোট্ট ইয়ামাল। পাশে তার মা। আর লিওনেল মেসি কাঁধ পর্যন্ত নামানো চুলে। তিনি ইয়ামালের মাকে সাহায্য করেছেন ইয়ামালের গোসল করিয়ে দিতে। এই ছবিটি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন লামিনে ইয়ামালের বাবা। তার ইন্সটাগ্রাম থেকে পরবর্তীতে ছবি চলে যায় ফুটবল বিশ্বের জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর কাছে। স্কাই ইতালিয়ার এই সাংবাদিকের কাছ থেকে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এই ছবি। এরপরই দ্বিতীয় একটি ছবি প্রকাশ করে স্প্যানিশ দৈনিক ডিয়ারিও স্পোর্টস। সেখানে প্রকাশিত দ্বিতীয় ছবিতে দেখা যায়, মেসি একাই লামিনে ইয়ামালকে ধরে বসে আছেন। ছোট্ট ইয়ামাল তখনো বাথটাবেই ছিলেন। ২০০৭ সালের শরতে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু’র অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুমে তোলা হয়েছিল এই ছবিগুলো। কাতালান সংবাদপত্র ‘দিয়ারিও স্পোর্ট’ এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট ছবিগুলো তুলেছিলেন।
এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২০২৪ সালে মনফোর্ট সেই গল্প শুনিয়েছিলেন, ‘আমরা ইউনিসেফের সহায়তায় ক্যালেন্ডারটি তৈরি করছিলাম। ইউনিসেফ মাতারোর রকা ফন্ডা এলাকায় একটি লটারির আয়োজন করেছিল। ঘটনাচক্রে সেখানে লামিনের পরিবারও বসবাস করতো। ক্যাম্প ন্যু-তে বার্সার কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তারা লটারির টিকিট কাটেন এবং জিতে যান।’
সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ড্রেসিংরুমে ইয়ামাল এবং তার মা শেইলা ইবানার সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন মেসি। তবে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। মনফোর্ট বলছিলেন, ‘মেসি খুবই অন্তর্মুখী এবং লাজুক স্বভাবের ছিল। ড্রেসিংরুমে ঢুকে যখন সে দেখল পানি ভর্তি একটি প্লাস্টিকের বাথটাব এবং তার ভেতর একটি শিশু, সে প্রথমে বুঝতেই পারছিল না বাচ্চাটিকে কীভাবে কোলে নেবে।’ ইয়ামালের মা শেইলাই তখন ২০ বছর বয়সী লাজুক মেসিকে ছবি তোলার কাজে সাহায্য করেছিলেন।
এত বছর পর নিজের তোলা ছবি এভাবে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলায় উচ্ছ্বসিত মনফোর্ট। তিনি বলছিলেন, ‘এমন একটা আলোড়ন তৈরি করা ঘটনার সঙ্গে নিজের নাম জড়িয়ে থাকাটা সত্যিই রোমাঞ্চকর। সত্যি বলতে, এটি খুব সুন্দর একটি অনুভূতি।’সেদিনের সেই সাক্ষাতের পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। মেসি বার্সেলোনা ছেড়েছেন ক্লাবের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা হয়ে। অন্যদিকে মাত্র ১৫ বছর ৯ মাস ১৬ দিন বয়সে বার্সার মূল দলে অভিষেক হওয়া ইয়ামাল ইতোমধ্যে জিতেছেন তিনটি লা লিগা এবং স্পেনের হয়ে ইউরো ২০২৪-এর শিরোপা। সম্প্রতি ১৯ বছরে পা রাখা ইয়ামাল ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সম্প্রতি মেসির মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্নের কথাও জানিয়েছিলেন ইয়ামাল। ক্রীড়াভিত্তিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ডিএজেডএনকে ইয়ামাল বলছিলেন, ‘আমি এখন কিছুটা বড় হয়েছি, লিও’র বয়সও বেড়েছে। আশা করছি ফাইনালে ওর মুখোমুখি হতে পারব। বিশেষ করে ফিনালিসিমা ম্যাচটি (ইউরো ও কোপা চ্যাম্পিয়নদের ম্যাচ) যেহেতু মাঠে গড়ায়নি, তাই এই ফাইনালটি আমার জন্য অনেক বড় সুযোগ।’ এখন নিয়তি তাদের আবারও এক বিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

