নিজস্ব প্রতিবেদক : দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেনশন ক্রিয়েটিভিটি অলিম্পিকে’ (WICO) দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে পলিনোমিয়াল ইনস্টিটিউটের তরুণ গবেষকদের দুটি দল। বিশ্বমঞ্চের এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতে দুটি যুগান্তকারী উদ্ভাবনের জন্য তারা দেশের জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক ছিনিয়ে এনেছে।
প্রতিযোগিতায় মর্যাদাপূর্ণ *স্বর্ণপদক* জয় করেছে টিম *’স্মৃতিকথা’*। ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমার্সে আক্রান্ত রোগীদের সহজ ও নিরাপদ জীবনের জন্য তারা তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও সেন্সরভিত্তিক একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচর্যা ব্যবস্থা। এই প্রযুক্তিতে রোগীর ব্যবহারের জন্য একটি স্মার্টওয়াচ (বা ঐতিহ্যবাহী চুড়ি), একটি টেবিলটপ ডিভাইস এবং ঘরের নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু সেন্সর একসাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে। এটি রোগীর হৃদস্পন্দন ও সার্বিক শারীরিক অবস্থা রিয়েল-টাইমে নজরদারিতে রাখা, নিখোঁজ হওয়া প্রতিরোধ করা এবং আকস্মিক পড়ে যাওয়া শনাক্ত করার কাজ করে। পাশাপাশি, ডিমেনশিয়া রোগীরা হঠাৎ বিভ্রান্ত হয়ে পড়লে এই ডিভাইসটি স্বজনদের পরিচিত কণ্ঠে রেকর্ড করা অডিও বাজিয়ে তাদের মানসিকভাবে শান্ত করতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, *রৌপ্যপদক* অর্জন করেছে টিম *’মায়া বেল্ট’। সন্তান জন্মদানের পর মায়েদের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (পোস্টপার্টম হেমোরেজ) সামাল দিতে তারা উদ্ভাবন করেছে *’মায়া’** নামের একটি বিশেষ স্মার্ট অ্যান্টি-শক গার্মেন্টস। প্রসূতি মৃত্যুর অন্যতম প্রধান এই কারণ প্রতিরোধে ‘মায়া’ প্রথাগত কাপড়ের বদলে আধুনিক সেন্সর ও স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদমের সাহায্যে কাজ করে। এটি রোগীর শরীরের নির্দিষ্ট পাঁচটি অঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী বাতাস চালনা করে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নির্গত রক্তের নিখুঁত হিসেব রাখে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে জরুরি বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পৌঁছাতে সময় লাগে, সেখানে মায়েদের প্রাণ বাঁচাতে এটি একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন। বাংলাদেশী এই দুই দলের সাফল্য বিশ্বমঞ্চে জীবনরক্ষাকারী আধুনিক প্রযুক্তি তৈরিতে দেশের মেধার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

