
র আগে, আজ সকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিকেলে তাকে আদালতে আনা হয়। এসময় তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এদিকে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান।
আবেদনে বলা হয়, আসামি ডনকে বিমানবন্দর থেকে ভোর ৫টায় আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। দীর্ঘদিন তিনি এ মামলায় পলাতক ছিলেন। আসামিকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলমান। আসামি জামিন পেলে মামলা তদন্তে বিঘ্নসহ চিরপলাতক হতে পারে। এমতাবস্থায় তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী তাকে কারাগারে আটক রাখার বিষয়ে শুনানি করেন। তবে ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
এর আগে বিকাল পৌনে ৩ টার দিকে ডনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে রাখা হয় ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, মাথায় হেলমেট, হাতে হাতকড়া পরিয়ে বিকাল ৫টার দিকে এজলাসে তোলা হয় ডনকে। কাঠগড়ায় নেওয়ার পর জ্যাকেট, হেলমেট, হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়।
কালো রঙের ছাপা শার্ট, জিন্স প্যান্ট, হলুদ জুতা পরা ডন কাঠগড়ার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন।
বিচারক জুয়েল রানা ৫ টা ৮ মিনিটের দিকে এজলাসে ওঠেন। জানতে চান, আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী আছেন কি না?
প্রসিকিউশন বিভাগ থেকে জানানো হয়, আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী নেই।
এরপর প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আসামিকে কারাগারে আটক রাখার যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন,"এটা একটা আলোচিত মামলা। দীর্ঘদিন পর একটা পর্যায়ে এসেছে। আজ ভোরে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছিলেন এ আসামি। ইমিগ্রেশন থেকে তাকে আটক করে সিআইডি পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। সিআইডি পুলিশ তাকে আদালতে তুলেছে।"
এই আইনজীবী বলেন, "ঢাকার সিনেমার প্রখ্যাত, নন্দিত, জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। ১৯৯৬ সালে তাকে খুন করা হয়। তার পরিবার যেন মামলা না করে এজন্য সালমান শাহর ছোট ভাইকে অপহরণ করে পরিবারকে ভয়-ভীতি দেখানো হয়। এ ঘটনায় সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ক্যান্টনমেন্ট থানায় অপহরণের মামলা করেন। রিজভী ওরফে ফরহাদ নামে এক আসামিকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। রিজভী এই মামলারও আসামি। ওই মামলায় রিজভী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। যেখানে সালমান শাহকে কিভাবে হত্যা করা হয় তাও উঠে আসে। অপহরণের মামলায় রিজভীর দুই বছরের জেল হয়। সাজা খেটে তিনি পলাতক রয়েছেন।"
এসময় ডন বলেন, "দুই বছরের জেল খেটে পলাতক। এটা কীভাবে হয়?" এরপর ওমর ফারুকী বলেন, "আসামিকে (ডন) জামিন দিলে পলাতক হতে পারেন। তাকে কারাগারে আটক রাখার প্রার্থণা করছি।" পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। এজলাসে তোলা হলে এক আইনজীবী ডনের সঙ্গে কথা বলেন। আইনজীবী আছে কিনা জানতে চাইলে ডন বলেন, "না, আসলাম তো ১০ মিনিট হলো। ভাই-ব্রাদার আসবে। ওরা এলে কী বলে…এ মুহূর্তে তো কিছু করা যাবে না।"
প্রকাশক : মোহাম্মদ বদরুজ্জামান তালুকদার
সম্পাদক : খান মোহাম্মদ সালেক
Copyright © 2026 Daily Dhaka Press. All rights reserved.