বিশ্বজুড়ে ডেস্ক : বুধবার সকালে ভোটে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দেয় নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়ায়। নেপালের সরকারি তথ্য জানাচ্ছে, রাসুয়ায় ৩৯৩ জন বিদেশি পর্যটকসহ প্রয় ৬০০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। নেপালের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নিহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনাও জানিয়েছেন তিনি। বঙ্গভবনের বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির শোকের তথ্য জানানো হয়।
বুধবারের এ ঘটনায় ৭০০ জন বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার। বৃহস্পতিবারও নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। এমন একটি পাহাড়ি এলাকায় এ বিপর্যয় ঘটেছে, যা ট্রেকিং ও তীর্থযাত্রার জন্য জনপ্রিয়।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ইঙ্গিত মিলেছে যে, একটি তুষারধস লেহন্দে নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। পাশাপাশি, হিমবাহের বরফগলা পানিতে ভরা কোনও হ্রদও ফেটে গিয়েছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার নেপালের পার্লামেন্টে দেশটির বিদেশমন্ত্রী শিশির খনাল জানান, সকাল ৮:৩৭ নাগাদ একটি ভূমিকম্প হয়। এর পর একটি তুষারধস ঘটে। তিনি বলেন, “সরকারের হাতে থাকা প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভোটেকোশিতে আকস্মিক বন্যা ৮:৪০ নাগাদ শুরু হয়। বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানের কাজ এখনও চলছে।”
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়ার পার্শ্ববর্তী নুয়াকোট এবং ধারিং জেলাও। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থের মতে, লেহন্দে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জমা পানির চাপ পাথর ফাটিয়ে ভোটেকোশীতে পড়ে এ বিপর্যয় ঘটিয়েছে।

