নিজস্ব প্রতিবেদক : বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়েছে। নতুন দর নির্ধারণের এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে ভোজ্য তেল নিয়ে জরুরি ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য দিয়েছেন বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। এর আগে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকেরা বৈঠক করেন।
বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে, পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। এসব কারণ দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল আরও বেশি (লিটারে ১০ টাকা) দাম বাড়ানোর। তিনি বলেন, বাজারে বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। সম্প্রতি বেড়েছে চিনির দাম। নতুন করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়বে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানি ব্যাহত হলে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়তে শুরু করে।
তবে গত ১২ এপ্রিল বাজারে ভোজ্যতেলের ‘পর্যাপ্ত’ সরবরাহ রয়েছে দাবি করে ভোক্তাদের ‘অহেতুক’ আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সে সময় দাম না বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও পরে সরকার সে সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে।
এর আগে গত বছরের ১৪ অক্টোবর প্রতি লিটারে ছয় টাকা এবং খোলা তেল আট টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে খোলা পাম তেলের দামও প্রতি লিটারে ১৩ টাকা বাড়নোর ঘোষণা দেয় ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠনটি।

